
বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও সংরক্ষণে অগ্রণী ভূমিকা রাখা বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সিতেশ রঞ্জন দেব আর নেই। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৭৫ বছর বয়সে তিনি মারা গেছেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৯টা ৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বিকেলে তার মরদেহ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার তোর গ্রামে পৈতৃক বাড়িতে নেওয়া হবে। সেখানেই তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
শ্রীমঙ্গলের রামকৃষ্ণ মিশন রোডের বাসিন্দা সিতেশ রঞ্জন দেব দেশের প্রথম বেসরকারিভাবে প্রতিষ্ঠিত বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পরিচর্যা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন গড়ে তোলেন। আহত ও অসুস্থ বন্যপ্রাণীর চিকিৎসা, পরিচর্যা ও পুনর্বাসনে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে তিনি দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করেন। পর্যটকদের কাছে তার এই কেন্দ্র ‘সিতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা’ নামেও ব্যাপক পরিচিত ছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তার বাবা শ্রীশ দেব ১৯৬২ সালে শখের বশে আহত ও বিপন্ন বন্যপ্রাণী উদ্ধার এবং সেবা-শুশ্রূষার কাজ শুরু করেন। বাবার দেখানো পথ অনুসরণ করে সিতেশ রঞ্জন দেবও এই কাজে যুক্ত হন এবং পরে শ্রীমঙ্গলে নিজ বাড়িতে একটি বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৭১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা এই কেন্দ্রটি ২০১১ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় সম্প্রসারিত হয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি দেশব্যাপী প্রশংসিত ছিলেন। তবে এই কাজ করতে গিয়ে ১৯৯১ সালে একটি ভাল্লুক উদ্ধার অভিযানের সময় তিনি গুরুতর আহত হন। ওই ঘটনায় তার একটি চোখসহ মুখ ও নাক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সিতেশ রঞ্জন দেবের মৃত্যুতে পরিবেশবাদী, বন্যপ্রাণীপ্রেমী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে তার অবদানকে চিরস্মরণীয় বলে উল্লেখ করেছেন।