
ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব বলতে অধিকাংশ মানুষ ফুসফুসের ক্ষতিকেই বোঝেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, সিগারেটের ধোঁয়া শুধু ফুসফুস নয়, মুখ, জিহ্বা, মাড়ি ও গলাকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। মুখে দীর্ঘদিনের ঘা, জিহ্বায় আলসার, গলার স্বর পরিবর্তন কিংবা কানে অকারণ ব্যথার মতো সাধারণ মনে হওয়া উপসর্গ অনেক সময় মুখ ও গলার ক্যানসারের প্রাথমিক সতর্কসংকেত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে অল্পবয়সী ও মধ্যবয়সীদের মধ্যেও মুখ ও গলার ক্যানসারের প্রবণতা বাড়ছে। ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য সেবন এ ধরনের ক্যানসারের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, রোগের শুরুতে দেখা দেওয়া লক্ষণগুলো সাধারণ অসুস্থতা মনে করে অনেকেই গুরুত্ব দেন না। ফলে রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়।
যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন
১. মুখে দীর্ঘদিনের ঘা
মুখ বা ঠোঁটে কোনো ঘা বা ক্ষত যদি দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে না সারে, কিংবা সাধারণ ওষুধ ব্যবহারের পরও ভালো না হয়, তাহলে তা অবহেলা করা উচিত নয়।
২. জিহ্বায় আলসার বা অস্বাভাবিক দাগ
জিহ্বার নিচে বা গোড়ায় দীর্ঘস্থায়ী আলসার, জিহ্বায় সাদা বা লালচে দাগ, খাবার চিবাতে, গিলতে বা কথা বলতে অস্বস্তি—এসবই সতর্ক হওয়ার লক্ষণ হতে পারে।
৩. মাড়ির অস্বাভাবিক সমস্যা
মাড়িতে ফোলা, বারবার রক্তপাত, ফোস্কার মতো ক্ষত বা ঘন ঘন সংক্রমণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
৪. গলার স্বর পরিবর্তন
কোনো কারণ ছাড়াই গলার স্বর বদলে যাওয়া, দীর্ঘদিন গলা ব্যথা বা স্বর ভাঙা থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।
৫. কানে অকারণ ব্যথা
এক বা দুই কানে দীর্ঘদিন ব্যথা, কিংবা কান থেকে পুঁজ বা রক্ত বের হওয়া মুখ ও গলার ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
৬. দীর্ঘদিনের শুকনো কাশি
কাশি দীর্ঘদিন স্থায়ী হওয়া, কাশির সঙ্গে রক্ত আসা বা দুর্গন্ধযুক্ত কফ বের হওয়া উদ্বেগজনক লক্ষণ। এমন উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
কী করবেন?
চিকিৎসকদের মতে, এসব লক্ষণ থাকলেই ক্যানসার হয়েছে-এমন নয়। তবে কোনো উপসর্গ যদি দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকে, তাহলে দেরি না করে নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিশেষজ্ঞ অথবা মুখগহ্বরের রোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুখ ও গলার ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই ধূমপান পরিহার, তামাকজাত পণ্য থেকে দূরে থাকা এবং সন্দেহজনক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করানোই হতে পারে জীবন রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।