
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে ঝুঁকিতে থাকা লাখো মানুষের জীবন রক্ষায় বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এখন সময় এসেছে জলবায়ু প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব কর্মে রূপ দেওয়ার, যাতে বিশ্ব আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে।
বুধবার চীনের দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে অনুষ্ঠিত Annual Meeting of the New Champions-এ ‘শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপে ক্লাইমেট লিডারশিপ’ শীর্ষক অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু কার্যক্রমকে ব্যয় নয়, বরং সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা ও যৌথ ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হিসেবে দেখে। তিনি বলেন, কোনো দেশ এককভাবে জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে পারে না; এ জন্য প্রয়োজন আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব, প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং সম্মিলিত অঙ্গীকার।
তিনি কপ-৩১ ও কপ-৩২ সম্মেলনের আগে তিনটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেন। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য ক্ষয়ক্ষতি তহবিল কার্যকর করা, জলবায়ু অর্থায়ন সহজলভ্য করা এবং অভিযোজন কার্যক্রমকে আরও গুরুত্ব দেওয়া।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য অভিযোজন কোনো নীতিগত বিকল্প নয়, বরং অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জলবায়ু অভিযোজন ও প্রশমন কার্যক্রমের জন্য বর্তমান অর্থায়ন প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত।
বক্তব্যে জলবায়ু মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ, তিস্তা ব্যারেজ আধুনিকীকরণ এবং ২৫ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সৌর, বায়ু ও বর্জ্য থেকে শক্তি উৎপাদনের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব শিল্প ও পরিবহন খাতেও বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড-সনদপ্রাপ্ত কারখানার মধ্যে ৬৯টিই বাংলাদেশে অবস্থিত, যা সবুজ উৎপাদনে দেশের অগ্রগতির প্রমাণ।
বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি কপ-৩১ সম্মেলনে United Nations Framework Convention on Climate Change এবং Paris Agreement-এর লক্ষ্য ও চেতনা পুনর্ব্যক্ত করার আহ্বান জানান।