ঢাকামঙ্গলবার , ৩ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

চাঁদপুরের মেঘনায় অবাধে পোনা নিধন, হুমকিতে দেশীয় মাছের ভবিষ্যৎ

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
১১ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৪৩ সকাল

Link Copied!

চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে নির্বিচারে ধরা হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির ছোট মাছ ও রেণু পোনা। প্রতি বছর শীত মৌসুম এলেই এক শ্রেণির অসাধু জেলে অবৈধ ও নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছের পোনা নিধনে নেমে পড়ে। এতে দেশীয় মাছের উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। তবে মৎস্য বিভাগ বলছে, ক্ষতিকর বেহুন্দি ও অন্যান্য নিষিদ্ধ জাল অপসারণে বিশেষ যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মেঘনা উপকূলীয় এলাকার জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নদীর অধিকাংশ মাছ শীত মৌসুমের আগেই ডিম ছাড়ে। ফলে শীত মৌসুমে ইলিশ, চিংড়ি, পাঙাশ, বেলে, আইড়, রিটা, পাবদা, পোয়া, চেউয়া, টেংরাসহ অন্তত ৩৫ প্রজাতির মাছের পোনায় ভরপুর থাকে নদী। কিন্তু এ সময়ই কিছু অসাধু জেলে বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে এসব পোনা নিধন করছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সদর উপজেলার লালপুর, রাজরাজেশ্বর, চিরারচর, পুরানবাজার, রনাগোয়াল, বহরিয়া, হরিণা, আখনের হাট ও হাইমচর কাটাখালি এলাকায় রাতের বেলায় ছোট মাছ ধরা হয়। দিনের বেলায় এসব জাল ও নৌকা নদীর পাড়ে এনে রাখা হয়। ভোর থেকে শুরু হয় পাইকারি বেচাকেনা। পরে এসব ছোট মাছ বাজার ও শহরের অলিগলিতে কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সদর উপজেলার হরিণা ফেরিঘাট এলাকার প্রবীণ একাধিক জেলে জানান, জোয়ার-ভাটার সময় বুঝে মধ্যরাতে পাতাজাল, বেহুন্দি জাল ও মশারি জালসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ জাল নিয়ে নদীতে নামেন জেলেরা। এসব জালে শুধু মাছের পোনা নয়, কাঁকড়াসহ নানা উপকারী জলজ প্রাণীও ধরা পড়ে। ধরা পোনা পুরানবাজারসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে নদীর পাড়েই দাদনদারদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত শত শত নৌকায় হাজারো জেলে এভাবে পোনা নিধনে যুক্ত থাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুরানবাজার ও রনাগোয়াল এলাকায় ‘বেলে গুড়া’ বা ‘সাগরের পোনা’ নামে বিভিন্ন মাছের পোনা বেচাকেনা করা হচ্ছে। রনাগোয়াল এলাকার একটি স্থানে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫টি নৌকা ভিড়ে এবং প্রায় ৫০ থেকে ৬০ মণ মাছ কেনাবেচা হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। এ কাজে জড়িত একটি চক্র প্রশাসনকে ম্যানেজ করার কথা প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছে-এমন অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয় জেলেরা।

পুরানবাজার ও রনাগোয়াল এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে জানান, শীত মৌসুমে পোনা ধরতে হলে আগে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের ‘ম্যানেজ’ করতে হয়। এরপর জোয়ার-ভাটার সময় বুঝে নিষিদ্ধ জাল নিয়ে নদীতে নামেন তারা।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শবেবরাত সরকার বলেন, “নির্বিচারে পোনা নিধনের ফলে মাছের উৎপাদন ক্রমেই কমে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে নদীগুলো মাছশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

এ বিষয়ে সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, “বিষয়টি আমরা অবগত। নিষিদ্ধ জাল অপসারণে নিয়মিত যৌথ অভিযান চলছে। গত সপ্তাহে একাধিক অভিযানে কারেন্ট জাল, বেহুন্দি, চরঘেরা ও মশারি জাল জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—এই দুই মাস বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

তথ্যসুত্র: ঢাকা মেইল

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

সাহারা মরুভূমিতে মিলল ৪১০ কোটি বছরের পুরোনো মঙ্গল গ্রহের উল্কাপিণ্ড

৩৫ উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা

ভালো ফলন ও দামে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাটচাষিদের মুখে হাসি

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তরুণ ইনফ্লুয়েন্সার জেজুনের

হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক-নার্স সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

সময়মতো ন্যায্যমূল্যে কৃষকের কাছে সার পৌঁছানোর নির্দেশ কৃষিমন্ত্রীর

৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকায় পদ্মা ব্যারাজ, বদলে যাবে ১৯ জেলার চিত্র?

বাইন্যান্সের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে ৬৩০ কোটি ডলার চুরি, নেপথ্যে কারা?

শুঁটকিতেও মিলল বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক: শীর্ষে লইট্টা ও চিংড়ি

যুদ্ধে বিপর্যস্ত কৃষ্ণসাগর: সাড়ে ৪ বছরে ১ লাখ ২০ হাজার ডলফিনের মৃত্যু

সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের জীবন বাঁচাতে তরুণদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও সিপিআর প্রশিক্ষণ

হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় দুই শিশুর মৃত্যু