
চট্টগ্রাম বন্দরে অন্য প্রতিষ্ঠানের নাম ও তথ্য ব্যবহার করে আমদানির অভিযোগে একটি সন্দেহজনক চালান জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। কায়িক পরীক্ষায় চালানটিতে বিপুল পরিমাণ তামাক/তামাকসদৃশ সামগ্রী, মাদকসদৃশ সন্দেহজনক পাউডারজাত পদার্থ এবং ঘোষণার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ স্ক্র্যাপ পেপার পাওয়া গেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
এনবিআর জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরে থাকা ডিএফএসইউ৬৭৫৩৮৪৯ নম্বর কনটেইনারের দুটি বিল অব লেডিং পরীক্ষা করে এসব পণ্যের সন্ধান পাওয়া যায়। নথিতে আমদানিকারক হিসেবে ‘অথয় এন্টারপ্রাইজ’-এর নাম উল্লেখ থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী লিখিতভাবে জানিয়েছেন, তিনি বা তার প্রতিষ্ঠান এ আমদানির বিষয়ে অবগত নন। চালানটির সঙ্গে তাদের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততাও নেই। তার আশঙ্কা, কোনো অসাধু চক্র প্রতিষ্ঠানের নাম ও আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে চালানটি এনেছে।
কাস্টমস নথি অনুযায়ী, মেনিফেস্ট নম্বর ৪৫২৪/২০২৬ এবং ভয়েজ নম্বর ০১১-এর আওতায় ‘এমভি উদ্দীপন এক্সপ্রেস’ জাহাজে কলকাতা থেকে চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। জাহাজটি ২০ সেপ্টেম্বর কলকাতা থেকে যাত্রা করে এবং ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়।
একই মাস্টার বিল অব লেডিং নম্বর ৩০১১৭৪৩৪৭-এর অধীনে দুটি হাউস বিল অব লেডিংয়ের মাধ্যমে পণ্যগুলো আমদানি দেখানো হয়।
প্রথম হাউস বিল অব লেডিং নম্বর আইএসএলসিসিইউ২৬২৭ সিজিপি০৯৫-এ পণ্যের ঘোষণা ছিল ‘পান মসলা ও জর্দা (চিবানোর তামাকজাত পণ্য)’। এতে ৪৭৩ প্যাকেজের মোট ওজন ৮ হাজার ৯৭৪ কেজি উল্লেখ করা হয়।
তবে গত ২৭ সেপ্টেম্বর কায়িক পরীক্ষায় ৪৭০ প্যাকেজে মোট ৮ হাজার ২৫০ দশমিক ৪ কেজি বা প্রায় ৮ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন তামাক/তামাকসদৃশ সামগ্রী পাওয়া যায়। এর মধ্যে গাঢ় বাদামি রঙের ৪২১ প্যাকেজে ৭ হাজার ৩২৫ দশমিক ৪ কেজি, বাদামি রঙের ৩১ প্যাকেজে ৫২৭ কেজি, ধূসর রঙের ১৩ প্যাকেজে ২৭৩ কেজি এবং সাদা রঙের ৫ প্যাকেজে ১২৫ কেজি সামগ্রী ছিল।
এনবিআর জানায়, উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে বিভিন্ন রঙের পাউডারজাত পদার্থ বাহ্যিকভাবে মাদকদ্রব্যের মতো সন্দেহজনক মনে হয়েছে। তবে এতে কোনো মাদক বা নিষিদ্ধ উপাদান রয়েছে কি না, তা রাসায়নিক ও পরীক্ষাগার পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় হাউস বিল অব লেডিং নম্বর আইএসএলসিসিইউ২৬২৭ সিজিপি০৯৬-এ পণ্যের ঘোষণা ছিল ‘মুদ্রিত কাগজের ক্যাটালগ’। নথিতে ১ হাজার ৫৭০ প্যাকেজের ওজন ৯ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৬০ কেজি দেখানো হলেও কায়িক পরীক্ষায় একই সংখ্যক প্যাকেজে ৯ হাজার ২৬৩ কেজি বা প্রায় ৯ দশমিক ২৬ মেট্রিক টন সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ পেপার পাওয়া যায়।
দুটি বিল অব লেডিং মিলিয়ে কায়িক পরীক্ষায় মোট ২ হাজার ৪০ প্যাকেজে ১৭ হাজার ৫১৩ দশমিক ৪ কেজি বা প্রায় ১৭ দশমিক ৫১ মেট্রিক টন পণ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে প্রায় ৮ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন তামাক/তামাকসদৃশ ও সন্দেহজনক পাউডারজাত সামগ্রী এবং ৯ দশমিক ২৬ মেট্রিক টন স্ক্র্যাপ পেপার রয়েছে।
এনবিআর জানিয়েছে, ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। পরীক্ষাগার পরীক্ষার ফলাফল ও তদন্তের ভিত্তিতে পণ্যের প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।