
২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত সাত জাপানি কর্মকর্তার স্মৃতিতে গত মঙ্গলবার এক বার্ষিক স্মরণসভা আয়োজন করেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। রাজধানীর উত্তরায় মেট্রোরেল এক্সিবিশন অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারে (এমইআইসি) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে পরামর্শদাতা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই সাত জাপানি নাগরিকের অবদান স্মরণ করে জাইকার এক্সিকিউটিভ সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট কাতসুরা মিয়াজাকি বলেন, “বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য যারা লক্ষ্য ও নিষ্ঠা নিয়ে কাজ করেছেন, তাদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই। সেইসাথে, মর্মান্তিক এই ঘটনায় নিহত সবার আত্মার শান্তি কামনা করি।”
তিনি আরও বলেন, নিহতদের অবদান কখনও ভোলা যাবে না এবং বাংলাদেশসহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের অগ্রগতিতে জাইকা ভবিষ্যতেও বৈশ্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি বাংলাদেশে কর্মরত জাইকা সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ও সহকারী মন্ত্রী ইশিজুকি হিদেও, আলমেক করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুজিমা তেতসুজি, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক মহাপরিচালক মোহাম্মদ নুরে আলম, অর্থ মন্ত্রণালয়ের এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. এহসানুল হক, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ হাসান আরিফ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক।
জাপান সরকার, বাংলাদেশ সরকার, এবং আলমেক করপোরেশন, ওরিয়েন্টাল কনসালটেন্টস গ্লোবাল, কাতাহিরা অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন জাপানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের অংশীদারিত্বে এ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, ঢাকার প্রথম মেট্রোরেল প্রকল্পের শুরুতে এই সাত জাপানি পরামর্শক জাইকার পক্ষে কাজ করছিলেন। তাদের মৃত্যু বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতার ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।