
কয়েক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে রংপুর মহানগরীর বিভিন্ন সড়ক ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল পর্যন্ত মহানগরীতে ৬৮.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতেই নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাবুখাঁ, মাস্টারপাড়া, আবহাওয়া অফিস এলাকা, চারতলা মোড় কলোনি, লালবাগ, পার্কের মোড়, মেডিকেল ক্যাম্পাস, নীলকণ্ঠ, সোটাপীর ও শান্তিবাগসহ অন্তত ১০টি এলাকায় সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে রয়েছে। কোথাও কোথাও ড্রেনের ময়লা পানি উপচে রাস্তায় উঠে এসে সৃষ্টি করেছে তীব্র দুর্গন্ধ। অনেক বাসিন্দার ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে, এমনকি কারও কারও বিছানা পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে গেছে।
নিম্নাঞ্চলের কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় শিক্ষার্থীদের ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন কর্তৃপক্ষ। এতে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচর্যার অভাবে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। কোথাও ড্রেন নেই, আবার কোথাও ড্রেন থাকলেও তা ময়লা-আবর্জনায় বন্ধ হয়ে আছে।
মাস্টারপাড়া এলাকার দারুল ইসলাম হাফেজিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন, “এখানে কোনো কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। সামান্য বৃষ্টিতেই মাদরাসা পানিতে ডুবে যায়। শিক্ষার্থীদের থাকার কক্ষেও পানি ঢুকে পড়ে, বাধ্য হয়ে তারা মসজিদে আশ্রয় নেয়।”
চারতলা মোড় কলোনির বাসিন্দা মহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, “প্রতি বছর বর্ষায় আমাদের এলাকা ডুবে যায়। সিটি করপোরেশন শুধু আশ্বাস দেয়, কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ হয় না।”
বাবুখাঁ এলাকার বাসিন্দা কানিজ আফরিন বলেন, “অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে এই পরিস্থিতি। ড্রেন থাকলেও পরিষ্কার করা হয় না, ফলে পানি নামার কোনো পথ থাকে না।”
এ বিষয়ে রংপুর সিটি করপোরেশন-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (দায়িত্বরত) রাকিব হাসান জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থার কোনো মাস্টারপ্ল্যান না থাকায় এ সমস্যা দীর্ঘদিনের। ইতোমধ্যে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে এবং সাময়িকভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন স্থানে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, আগামী ৪ মে পর্যন্ত এমন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর থেকে আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নগরবাসীর আশা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।