
ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবাশ্মবিদ জুয়ান লিউ সম্প্রতি ৬৭ মিলিয়ন বছর বয়সী একটি প্রাচীন জীবাশ্ম মাছ, অ্যাক্রোনিচথিস ম্যাক্যাগনোই, নিয়ে গবেষণা করেছেন। এই মাছের মধ্যকর্ণে ‘ওয়েবেরিয়ান যন্ত্রপাতি’ পুনর্গঠন করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে মিঠা পানির মাছের শ্রবণশক্তির বিবর্তন আরও জটিল এবং সমৃদ্ধ।
গবেষণায় দেখা গেছে, মাছটির কানের মধ্যবর্তী হাড়ের গঠন আধুনিক মিঠা পানির মাছের মতো সংবেদনশীল শ্রবণশক্তি প্রদান করত। এই ওয়েবেরিয়ান যন্ত্রপাতি আজকের মিঠা পানির মাছের দুই-তৃতীয়াংশে বিদ্যমান, যার মধ্যে ক্যাটফিশ, জেব্রাফিশ এবং টেট্রা প্রজাতি অন্তর্ভুক্ত। মাছের বাতাস ভর্তি মূত্রাশয় এবং হাড়ের কাঠামোর সমন্বয় উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সিতে শব্দ শনাক্ত করতে সক্ষম করে, যা মানুষের শ্রবণ সীমার কাছাকাছি।
লিউ ও তার সহকর্মীরা জীবাশ্ম এবং আধুনিক মাছের জিনোম বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেছেন যে অটোফিসান মাছের পূর্বপুরুষ মূলত সামুদ্রিক ছিল। মিঠা পানিতে অনুপ্রবেশের পর তারা সংবেদনশীল শ্রবণশক্তি বিকশিত করেছিল, যা প্রজাতি বর্ধন এবং বৈচিত্র্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। গবেষণায় দেখা গেছে, মিঠা পানির মাছের এই বর্ধিত শ্রবণশক্তি তাদের জটিল ও পরিবর্তনশীল পরিবেশে টিকে থাকতে সাহায্য করেছে।
গবেষণার ফলাফল বিশ্বের সবচেয়ে সফল মিঠাপানির মাছের বিবর্তন এবং তাদের জটিল জীবভূগোলের ওপর নতুন দৃষ্টি প্রদান করছে। সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় ৩ডি স্ক্যান এবং কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে প্রাচীন মাছের কানের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। লিউ বলেন, এই গবেষণা দেখিয়েছে যে প্রায় ৬৭ মিলিয়ন বছর আগে অটোফিসান মাছের শ্রবণশক্তি আজকের জেব্রাফিশের কাছাকাছি ছিল।
গবেষণায় সহ-লেখক হিসেবে রয়েছেন ডন ব্রিঙ্কম্যান, মাইকেল নিউব্রে, জেহুয়া ঝো, লিসা ভ্যান লুন এবং নীল ব্যানার্জি। তাদের বিশ্লেষণ প্রমাণ করছে, মিঠা পানির মাছের অসাধারণ বৈচিত্র্য ও বিবর্তন প্রক্রিয়ায় বারবারের নতুন আবাসস্থলে অনুপ্রবেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কর
তথ্যসুত্র: phys.org