
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের কারণে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সদর উপজেলার বাহুকা ও চৌহালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। পাশাপাশি নদীর চরাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করায় নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্ট এলাকায় যমুনার পানি ১৮ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুর উপজেলার মেঘাইঘাট পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে যমুনা নদীর প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণাবর্তের কারণে সদর উপজেলার বাহুকা পয়েন্টে নদীতীর রক্ষা বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে। এতে প্রায় ৩০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে চলে গেছে। এছাড়া পানি বৃদ্ধি ও হ্রাসের প্রভাবে চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার কয়েকটি পয়েন্টেও নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বসতভিটা ও কৃষিজমি।
ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জিও ব্যাগভর্তি বালুর বস্তা ফেলার কাজ করছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, গত চার দিন ধরে যমুনার পানি বাড়লেও এখনও তা বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৯০ সেন্টিমিটার এবং মেঘাইঘাট পয়েন্টে ২৪০ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। তবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে।