ঢাকারবিবার , ২৮ জুন ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. লাইফস্টাইল

আইএমএফ পূর্বাভাসে ভারতের গড় প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৪ শতাংশ, চীন পেছনে

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
২২ জুলাই ২০২৫, ১:২৩ বিকাল

Link Copied!

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) এর সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময়কালে বিশ্বের দ্রুততম প্রবৃদ্ধিশীল বড় অর্থনীতির তালিকায় শীর্ষে থাকবে ভারত। সংস্থাটির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আগামী ছয় বছরে ভারতের বার্ষিক গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে প্রায় ৬.৪ শতাংশ, যা বিশ্বের যেকোনো বৃহৎ অর্থনীতির তুলনায় সর্বোচ্চ।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আরেক উদীয়মান অর্থনীতি ইন্দোনেশিয়া। দেশটির গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৪.৯ শতাংশ। এই প্রবৃদ্ধি মূলত দেশটির অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি, অবকাঠামো খাতের সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতির কারণে সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, যাদের গড় প্রবৃদ্ধি হবে ৪.৪ শতাংশ। তেলনির্ভর অর্থনীতি হলেও, আমিরাত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈচিত্র্যপূর্ণ অর্থনৈতিক কৌশল গ্রহণ করায় এই প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হচ্ছে।

চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে চীন, যার গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৩.৯ শতাংশ। এটি এক দশক আগের তুলনায় অনেকটা কম হলেও, বিশ্ববাজারে চীনের প্রভাব ও আকার বিবেচনায় এই হার এখনও গুরুত্বপূর্ণ। পঞ্চম স্থানে রয়েছে সৌদি আরব, যাদের গড় প্রবৃদ্ধি হবে ৩.৩ শতাংশ। ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনার আওতায় তেলনির্ভরতা কমিয়ে বিভিন্ন খাতে বৈচিত্র্য আনার কারণে দেশটি এই প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে পারবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া তালিকায় রয়েছে সিঙ্গাপুর (২.৩ শতাংশ), ব্রাজিল ও অস্ট্রেলিয়া (দু’দেশেই ২.২ শতাংশ), যুক্তরাষ্ট্র (২.০ শতাংশ), দক্ষিণ কোরিয়া (১.৭ শতাংশ), দক্ষিণ আফ্রিকা (১.৫ শতাংশ), রাশিয়া (১.২ শতাংশ) এবং জার্মানি (০.৯ শতাংশ)। এই তালিকায় কেবলমাত্র বৃহৎ অর্থনীতিগুলোকেই বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ যেসব দেশের অর্থনীতি বৈশ্বিক প্রবণতায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মতো উদীয়মান অর্থনীতিগুলো যেখানে অভ্যন্তরীণ বাজার, জনসংখ্যাগত সুবিধা এবং ডিজিটাল খাতের প্রসারে এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে ইউরোপের অনেক উন্নত অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির দিক থেকে পিছিয়ে পড়ছে। জার্মানির মাত্র ০.৯ শতাংশ গড় প্রবৃদ্ধি মূলত শিল্প খাতের স্থবিরতা এবং রপ্তানি বাজারে চ্যালেঞ্জের প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রসঙ্গ এ আলোচনায় সরাসরি আসেনি, কারণ IMF কেবল বৃহৎ অর্থনীতিগুলোকেই এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তবে দেশের অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের গড় প্রবৃদ্ধি যদি ৬ শতাংশের উপরে থাকে এবং রপ্তানি, রেমিট্যান্স ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা স্থিতিশীল থাকে, তবে বাংলাদেশও এই তালিকার বাইরে থেকেও দক্ষিণ এশিয়ার একটি সম্ভাবনাময় শক্তি হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্ব অর্থনীতির দিকনির্দেশনায় এই পূর্বাভাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ছয় বছর বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি, পরিবেশ, ভূ-রাজনীতি এবং সরবরাহ চেইনের মতো বিষয়গুলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তার উপরই নির্ভর করবে এই পূর্বাভাসের বাস্তবতা।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

চীনে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ৭ বাংলাদেশি

চকরিয়ায় মাইক্রোবাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ২

অতিরিক্ত করলা খেলে হতে পারে ৫ স্বাস্থ্যঝুঁকি

Revolutionary Technology ‘TESOS’ in Biological Tissue Observation

জৈবিক টিস্যু পর্যবেক্ষণে বৈপ্লবিক প্রযুক্তি ‘টিইএসওএস’

পাখিরা কীভাবে পথ চেনে? সমাধান দিল নতুন গবেষণা

দেশজুড়ে বাড়ছে বৃষ্টির প্রবণতা, কয়েক জেলায় তাপপ্রবাহ অব্যাহত

Phoenix Summit 2026 Concludes with Strong Focus on Cybersecurity and Digital Resilience

সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সহনশীলতায় গুরুত্ব দিয়ে শেষ হলো ফিনিক্স সামিট ২০২৬

পিকআপ-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে মা-মেয়েসহ নিহত ৩

গ্যাস বেলুনে ১৫ মিনিট বন্ধ মেট্রোরেল

ঢাকাসহ ১২ জেলায় দুপুরের মধ্যে ঝড়-বৃষ্টির আভাস