
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে সিগারেটের সব ধরনের স্তরে দাম বাড়ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সূত্রে জানা গেছে, সিগারেটের নিম্নস্তরের ১০ শলাকার মূল্য ৬২ টাকা ও তদুর্ধ্ব, মধ্যম স্তরের ১০ শলাকার মূল্য ৯২ টাকা ও তদুর্ধ্ব, উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার মূল্য ১৬০ টাকা ও তদুর্ধ্ব এবং অতি-উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার মূল্য ২১০ টাকা ও তদুর্ধ্ব নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সিগারেটের বাজারের ৭৫ শতাংশই বিক্রি হয় নিম্ন স্তরের সিগারেট। ফলে এই স্তরের সিগারেটের মূল্য মাত্র ২ টাকা বৃদ্ধি হওয়ায় জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর বলে জানিয়েছেন তামাক নিয়ন্ত্রণ গবেষক সুশান্ত সিনহা। তিনি বলেন, তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য ও কর হার বাড়ানো হয় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ভোক্তা কমানোর জন্য। কিন্তু নিম্ন স্তরের সিগারেটের যে নামমাত্র মূল্য বাড়ানো হয়েছে সেটাতে সিগারেটের ভোক্তা কমানোর পরিবর্তে আরও বেড়বে। কারণ অন্যান্য স্তরের সিগারেটের মূল্য তুলনামূলকভাবে বেশি বাড়ানো হয়েছে। ফলে ওই সব সিগারেটের ভোক্তা নিম্ন স্তরের সিগারেটের ভোক্তায় পরিণত হবে।
এনবিআর সূত্রে আরও জানা গেছে, নিকোটিন পাউচের প্রতি ১০ গ্রামের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সম্পূরক শুল্ক ৪০% করার হয়েছে। পাশাপাশি হিটেড টোব্যাকোর প্রতি ১০ শলাকার সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ২১০ টাকা ও সম্পূরক শুল্ক ৬৭% নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সাথে নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকোর ওপর স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ ১ শতাংশ আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সুশান্ত সিনহা বলেন, তামাক বিরোধী সংগঠন ও বিশেষজ্ঞরা নিকোটিন পাউচ ও ই-সিগারেটকে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে এসেছে। বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এসব পণ্য ক্ষতিকর বিবেচনায় নিয়ে ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ উল্টো পথে হেঁটে এসব পণ্যকে বৈধতা দেয়ায় দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং দেশের মানুষের স্বাস্থ্য ব্যয় বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, আমরা দীর্ঘদিন থেকে বাজেট প্রস্তাব থেকে ‘ও তদুর্ধ্ব’ শব্দটি বাতিল করার দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু এনবিআর সেটাতে কর্ণপাত করছে না। এই শব্দের অপব্যবহার করে তামাক কোম্পানি প্রতিবছর নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ করে সিগারেট বাজারজাত করছে এবং হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। সরকারের উচিত দ্রুত বাজেট প্রস্তাব থেকে ‘ও তদুর্ধ্ব’ শব্দটি বাতিল করা। একইসঙ্গে নিকোটিন পাউচ ও ই-সিগারেট নিষিদ্ধে উদ্যোগ নেয়া।