ঢাকামঙ্গলবার , ৩ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. জীবন বীমা ও ব্যাংক

জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগাতে বাংলাদেশের হাতে দুই দশক: বিশ্বব্যাংক

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ নভেম্বর ২০২৬, ৩:১৬ বিকাল

Link Copied!

জনমিতিক পরিবর্তনকে অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় রূপান্তরের জন্য বাংলাদেশের সামনে গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা রয়েছে। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত ২০৪৫ সালে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। অর্থাৎ জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগানোর জন্য বাংলাদেশের হাতে প্রায় দুই দশক সময় রয়েছে। তবে এই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘Demographic Change in South Asia: From Tailwinds to Headwinds for Development’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় বর্তমানে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ১১৭ কোটি। তবে এই বিপুল জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর সময় ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে। আগামী এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে কমতে শুরু করবে। ২০৪৯ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া বার্ধক্যপ্রবণ অঞ্চলে পরিণত হবে। তখন মোট জনসংখ্যার ১৪ শতাংশের বয়স হবে ৬৫ বছর বা তার বেশি। বাংলাদেশ ২০৫১ সালের মধ্যে এই পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে বেশি সময় পেলেও কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখনই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০০০ সাল থেকে কর্মক্ষম বয়সী জনগোষ্ঠীর অনুপাত বৃদ্ধির ফলে দক্ষিণ এশিয়ার জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে বার্ষিক ০.৪ শতাংশ এবং শ্রম উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে ১.১ শতাংশ অবদান রেখেছে। তবে অন্যান্য তুলনীয় উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ায় মাথাপিছু আয় কম থাকা অবস্থাতেই দ্রুত জনসংখ্যার বার্ধক্য ঘটছে। ২০৫০ সাল নাগাদ জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে জনমিতিক পরিবর্তনের বার্ষিক অবদান কমে মাত্র ০.১ শতাংশে দাঁড়াবে।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিগুলো উন্নয়নের তুলনামূলক প্রাথমিক পর্যায়েই দ্রুত বার্ধক্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নত ও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণ জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দেশগুলোকে এখনই নীতি গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে বার্ধক্য মোকাবিলার প্রস্তুতিও নিতে হবে।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়া তার বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সর্বোচ্চ সুফল পেতে পারবে। পাশাপাশি সুস্থ বয়স্ক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক অবদান অব্যাহত রাখার মধ্য দিয়ে ‘দ্বিতীয় জনমিতিক লভ্যাংশ’ অর্জনের ভিত্তি তৈরি হবে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, দেশের অনুকূল বয়সভিত্তিক জনসংখ্যা কাঠামো এখনো পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে পুরোপুরি রূপান্তরিত হয়নি। এর পেছনে রয়েছে আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির সীমাবদ্ধতা, শ্রমবাজারে নারীদের কম অংশগ্রহণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে দীর্ঘদিনের ঘাটতি।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ কর্মজীবী মানুষ রয়েছেন। তাঁদের প্রায় ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। এমনকি উচ্চশিক্ষার ডিগ্রিও আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। স্নাতক ডিগ্রিধারীদের ৪৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানে নিয়োজিত। আনুষ্ঠানিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতিও ধীর। সাম্প্রতিক সময়ে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে কর্মীসংখ্যা কমিয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেন, বাংলাদেশের জনমিতিক সম্ভাবনা নির্ভর করছে এখন দেশটি কী পদক্ষেপ নিচ্ছে তার ওপর। প্রতিষ্ঠানগুলোকে উন্নত কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করা, তরুণদের বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষতায় দক্ষ করে তোলা এবং নারীদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের বাধা দূর করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যার চাহিদা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবা ও বার্ধক্যকালীন আয়-নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার কাজ এখনই শুরু করতে হবে। এ ধরনের পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণও জোরদার করতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার স্বাস্থ্যসেবা, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা ও পেনশন ব্যবস্থা দীর্ঘজীবী হলেও সবসময় সুস্থ না থাকা জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণের জন্য এখনো যথেষ্ট প্রস্তুত নয়। এ অঞ্চলের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মাত্র ১৭ শতাংশ কোনো পেনশন কর্মসূচিতে অবদান রাখেন। অন্যদিকে, বয়স্ক দক্ষিণ এশীয়দের মাত্র ১০ শতাংশ কোনো ধরনের পেনশন সুবিধা পান, যা বিশ্বে সর্বনিম্ন।

এই দুই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য একটি কর্মপরিকল্পনাও তুলে ধরেছে বিশ্বব্যাংক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তরুণ জনগোষ্ঠীর লভ্যাংশ ধরে রাখতে আরও বেশি উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগের (এমএসএমই) অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং নিয়ন্ত্রক বিধিবিধান সহজ করতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দক্ষতার উন্নয়ন এবং নারীদের কর্মসংস্থানে বিদ্যমান বাধা দূর করতে হবে।

অন্যদিকে, স্বাস্থ্যসেবা, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা ও পেনশন ব্যবস্থা শক্তিশালী করার মাধ্যমে ‘দ্বিতীয় জনমিতিক লভ্যাংশ’ অর্জনের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। এ ছাড়া সঞ্চয় ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

স্ন্যাপড্রাগন ফাইভজি প্রসেসরসহ রেডমি ১৭ ফাইভজি উন্মোচন করল শাওমি

আগামী গ্রীষ্মের আগে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে জাতীয় গ্রিডে: প্রধানমন্ত্রী

পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে সব প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দুই বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা

নেপালে অবতরণের সময় দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ, নিহত ১

বুয়েটের মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হলেই মিলবে ই-রিকশার নিবন্ধন

সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হলে ডিলারশিপ বাতিল: কৃষিমন্ত্রী

গ্যাস সংকটের মধ্যে নোয়াখালীতে নতুন গ্যাসের সন্ধান

এক দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে পাঁচ গুণের বেশি

হিমালয়ে বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা, ঝুঁকির মুখে প্রায় ৩ লাখ মানুষ

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে জরুরি প্রস্তুতি, কীসের আশঙ্কায় খাবার-পানি মজুতের পরামর্শ?

ঢাকায় মেঘলা আকাশ, আবহাওয়া থাকবে শুষ্ক