
লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় প্রায় ৭০টি অবৈধ ইটভাটা বন্ধ এবং কৃষিজমির উর্বর মাটি কাটা প্রতিরোধে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন সংসদের হুইপ ও লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান।
এ বিষয়ে গত ১৫ অক্টোবর মন্ত্রীকে একটি আধা-সরকারি পত্র পাঠিয়েছেন তিনি। পত্রে অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ, কৃষিজমি ও গ্রামীণ সড়ক রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পত্রে হুইপ নিজান উল্লেখ করেন, রামগতি ও কমলনগর উপজেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর। এ অঞ্চলের কৃষিজমি স্থানীয় মানুষের জীবিকা, খাদ্য উৎপাদন ও অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি আইন ও পরিবেশগত বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় ব্যবহার করছেন। এতে জমির উর্বরতা ও উৎপাদনক্ষমতা কমে যাচ্ছে এবং কৃষকরা দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অবৈধ ইটভাটার ধোঁয়া, ধুলাবালি ও অন্যান্য দূষণকারী উপাদানের কারণে বায়ুদূষণ বাড়ছে। এতে জনস্বাস্থ্য, স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে এলাকার কৃষি, পরিবেশের ভারসাম্য ও জলবায়ুসহিষ্ণু উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পত্রে বলা হয়, কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় নেওয়ার কাজে অতিরিক্ত মালামালবোঝাই ট্রাক্টর-ট্রলি, ট্রাক ও অন্যান্য ভারী যানবাহন ব্যবহারের ফলে গ্রামীণ সড়ক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সড়কে ভাঙন, খানাখন্দ ও গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এসব যানবাহনের কারণে ধুলাবালি, শব্দদূষণ ও সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে রামগতি ও কমলনগর উপজেলার ইটভাটাগুলো সরেজমিনে তদন্ত করে অবৈধ ভাটা চিহ্নিত করা, প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ছাড়পত্র ও আইনগত অনুমোদন যাচাই এবং আইন লঙ্ঘনকারী ভাটার কার্যক্রম বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন হুইপ নিজান।
একই সঙ্গে কৃষিজমির উর্বর মাটি অবৈধভাবে কাটা ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিত তদারকি ও নজরদারি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
পত্রে কৃষিজমি, কৃষকের স্বার্থ, জনস্বাস্থ্য, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও গ্রামীণ সড়ক রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
পত্রের অনুলিপি পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক এবং রামগতি ও কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।