
সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৭ বাংলাদেশি। আহতদের মধ্যে ১২ জন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। বাকি ১৫ জন রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর।
বাংলাদেশ দূতাবাসের রিয়াদ শ্রমকল্যাণ উইংয়ের ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বিভিন্ন দেশের মোট ১০ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন।
নিহত দুই বাংলাদেশি হলেন এসি মেকানিক মো. শাহেদ আহমেদ এবং নাসরুল্লাহ বদরুদ্দোজা। নাসরুল্লাহ পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যাচ্ছিলেন। তাঁরা দুজনই জেদ্দাগামী ফ্লাইটের জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন। হামলায় ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়।
আহত ২৭ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবপ্রবাসী কর্মী এবং ১৬ জন ওমরাহ ভিসার যাত্রী। তাঁদের মধ্যে ১২ জন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। বাকি ১৫ জন রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর।
রিয়াদ ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন সাফফাত রহমানের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য আহতরা কিং আব্দুল্লাহ হাসপাতাল, রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতাল, প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতাল, সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতাল ও কিংডম হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
হামলার পর বিমানবন্দরে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের সহায়তায় দূতাবাস তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয়। আটকে পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১৭ জনকে ম্যারিয়ট হোটেলে, ২৫ জনকে রেডিসন ব্লু হোটেলে এবং ৪০ জনকে রিয়াদ প্রিন্সেস নূরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরিতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ ছাড়া রিয়াদ থেকে ঢাকাগামী সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের এসভি৮০৪ ফ্লাইটের প্রায় ৪০০ যাত্রীকে নিরাপদে বাংলাদেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। হামলায় পাসপোর্ট হারিয়ে ফেলা তিন বাংলাদেশিকে জরুরি ট্রাভেল পারমিটও দিয়েছে দূতাবাস।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সৌদি সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে রিয়াদে কর্মী পাঠানো এবং রিয়াদ থেকে সাধারণ কর্মী ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দেশে ফেরার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে বাংলাদেশ দূতাবাস। আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসা এবং বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের সহায়তায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।