ঢাকাশুক্রবার , ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

উৎপাদন খরচ বাড়লেও ধানের দাম কম, দুশ্চিন্তায় জয়পুরহাটের কৃষক

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩১ সকাল

Link Copied!

উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমন ধান চাষ ও পরিচর্যা করতে গিয়ে আর্থিক সংকট ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে জয়পুরহাটের প্রান্তিক কৃষকদের। ডিজেল, সার, বীজ, কীটনাশক ও কৃষি শ্রমিকের দাম বাড়ায় এবার বিঘাপ্রতি আমন চাষে খরচ বেড়েছে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা। তবে এর বিপরীতে বাজারে ধানের দাম কম থাকায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

কৃষকদের দাবি, লিটারে ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়ায় পাওয়ার টিলার মালিকরা গত মৌসুমের তুলনায় এবার বিঘাপ্রতি চাষের খরচ ৩০০ টাকা বেশি নিচ্ছেন। গত বছর যেখানে বিঘাপ্রতি হাল চাষে খরচ ছিল প্রায় ১ হাজার ৩০০ টাকা, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬০০ টাকায়।

এ ছাড়া ধান রোপণে কৃষি শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে প্রায় ৫০০ টাকা। খুচরা বাজারে সংকটের অজুহাতে বস্তাপ্রতি সারের দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। একইভাবে কীটনাশকের দাম বেড়েছে প্রায় ৫০০ টাকা। এর সঙ্গে বীজ, সেচ ও অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়েছে।

কৃষকদের হিসাবে, এবার জমির দামসহ এক বিঘা জমিতে আমন ধান উৎপাদনে খরচ পড়ছে প্রায় ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকা। অথচ গত বছর একই জমিতে আমন চাষে সর্বোচ্চ খরচ হয়েছিল প্রায় ২১ হাজার টাকা।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার বিঘাপ্রতি ১৮ থেকে সর্বোচ্চ ২০ মণ ধান উৎপাদন হতে পারে বলে আশা করছেন কৃষকরা। তবে উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে ধানের ন্যায্য দাম না পেলে গত আলু ও বোরো মৌসুমের মতো আমনেও লোকসান গুনতে হবে বলে আশঙ্কা তাদের। তাই ধানের যৌক্তিক ও ন্যায্য দাম নির্ধারণে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার বানিয়াপাড়া গ্রামের কৃষক দুলাল হোসেন বলেন, ‘ফসল চাষ করে লাভ হচ্ছে না। আলুতে লোকসানের কারণে ঋণ করে বোরো চাষ করেছি। কিন্তু বাজারে ধান বিক্রি করতে গিয়ে দাম পাইনি। বিঘাপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সব জিনিসের দাম বাড়লেও ধানের দাম নেই। ডিজেলের দাম বেশি হওয়ায় এবার চাষ খরচই নিচ্ছে ১ হাজার ৬০০ টাকা। আগে ছিল ১ হাজার ৩০০ টাকা। আবার ৮০০ টাকার নিচে কোনো শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। সারের দামও বেশি। এজন্য বিঘাপ্রতি এবার চার-পাঁচ হাজার টাকা বেশি খরচ হচ্ছে।’

ক্ষেতলাল উপজেলার তারাকুল গ্রামের কৃষক জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘ফসল উৎপাদন করে দাম না পেয়ে দিন দিন আমরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছি। আমন ধানেও যদি কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়া যায়, তাহলে আমরা চলব কীভাবে?’

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জয়পুরহাটে ৭০ হাজার ৯৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব জমি থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার ৯৫৭ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলার প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ জমিতে আমন চাষ সম্পন্ন হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক এ.কে.এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, কৃষকরা যেন লাভবান হতে পারেন, সে জন্য ফলন বাড়াতে সার্বক্ষণিক তাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পুরো মৌসুমজুড়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমন চাষ করে কৃষকরা লাভবান হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

দেশব্যাপী হাতি জরিপ পরিচালনা করবে অরণ্যক ফাউন্ডেশন

বিশ্বের সেরা নতুন ভবনের স্বীকৃতি পেল রংপুরের ‘গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরি’

আম-লিচু বাগানে প্রথমবারের মতো মিলল নতুন প্রজাতির ঝিঁঝিঁ পোকা

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণে দেশের রোল মডেল হতে পারে বরিশাল

পাট খাতে চীনের প্রযুক্তি ও গবেষণা সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

Xiaomi Launches Xiaomi TV S Pro Mini LED and Xiaomi TV X Mini LED Series in Bangladesh

বাংলাদেশে শাওমি টিভি এস প্রো মিনি এলইডি ও শাওমি টিভি এক্স মিনি এলইডি নিয়ে এলো শাওমি

স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যানসার শনাক্তে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করছে সরকার

তৃণমূল পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার শনাক্তে স্ক্রিনিং চালুর উদ্যোগ সরকারের

হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী ১,২৫৪

সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট ১৯৫

সোনাইমুড়ীতে ট্রলির চাপায় মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু