
পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ম্যারাথন, সম্প্রীতি সভাসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। পাশাপাশি পাহাড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল ও অভিযানও জোরদার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও আনসারসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা পার্বত্য অঞ্চলে বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সহাবস্থান ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে কাজ করছেন। সম্প্রতি পার্বত্য জেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনকালে এসব উদ্যোগের চিত্র দেখা গেছে।
আজ ৯ আগস্ট পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব আদিবাসী দিবস’। দিবসটি উপলক্ষে বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে যাতে কোনো ধরনের জনদুর্ভোগ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের আন্তরিক প্রচেষ্টায় খাগড়াছড়িতে সম্প্রীতি বজায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত সম্প্রীতি সভার আয়োজন করা হয়। ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি যাতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলায় রূপ না নেয়, সে লক্ষ্যেই এসব সভা করা হয়। এতে সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
এ ছাড়া পুলিশের উদ্যোগে বিভিন্ন সময়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়, পারস্পরিক সহাবস্থান ও সম্প্রীতি বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, খাগড়াছড়িতে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন। তাদের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি বলেন, খাগড়াছড়িতে পর্যটন শিল্প রয়েছে। পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের মাধ্যমে স্থানীয়দের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়।
পাঠশালা সিএইচটি রিসার্চ সেলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ কাউছার উল্লাহ বলেন, সম্প্রীতি বাড়াতে সেনাবাহিনী বিভিন্নভাবে কাজ করছে। পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সব জনগোষ্ঠীর মধ্যে মেলবন্ধন আরও বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন, বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন।
স্থানীয়রা জানান, সম্প্রীতি রক্ষার পাশাপাশি পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় মানুষের জন্য বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে সেনাবাহিনী। এর মধ্যে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ এবং শিক্ষাক্ষেত্রে সহায়তা অন্যতম।
দুর্গম অঞ্চলে যেখানে মানুষ সহজে চিকিৎসাসেবা পান না, সেখানে সেনাবাহিনীর মেডিকেল টিম সরাসরি গিয়ে চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করে থাকে। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দুর্গম এলাকা থেকে হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করা হয়। এমনকি নিয়মিত টহল কার্যক্রমের সময়ও প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয়দের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।