ঢাকাবুধবার , ৪ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. জীবন বীমা ও ব্যাংক

তীব্র গরমে বাংলাদেশের আর্থিক ক্ষতি ১.৮ বিলিয়ন ডলার: বিশ্বব্যাংক

প্রতিবেদক
হাসান মাহমুদ
৩০ জুলাই ২০২৬, ১:৫০ বিকাল

Link Copied!

অতিরিক্ত গরমের কারণে শ্রম উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ায় ২০২৪ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আনুমানিক ১৩০ থেকে ১৮০ কোটি (১ দশমিক ৩ থেকে ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। যা বাংলাদেশি টাকায় ২ হাজার ২০৮ কোটি টাকার সমান। বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত ‘আ লিভেবল ফিউচার: প্রোটেকটিং জবস অ্যান্ড গ্রোথ ফ্রম এক্সট্রিম হিট ইন সাউথ এশিয়াস সিটিজ’ শীর্ষক নতুন এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় শূন্য দশমিক ৩ থেকে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশের সমান। দিনের তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পার হলেই উৎপাদনশীলতা হ্রাসের কারণে এই ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত বাড়তে থাকে।

তীব্র তাপদাহের সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে রাজধানী ঢাকার ওপর। অসহ্য গরমের কারণে রাজধানীতে বছরে প্রায় ৩ শতাংশ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, যা প্রতি বছর প্রায় ৪ লাখ ৬৫ হাজার পূর্ণকালীন চাকরি হারানোর সমতুল্য। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০৮০ সালের মধ্যে ঢাকার ক্ষতির পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ৭ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

গরমের কারণে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতও বহু শতকোটি ডলারের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর যৌথ বিশ্লেষণের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, গরম নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশের পোশাক খাতকে প্রায় ৬৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় হারাতে হতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত গরমের কারণে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কাজ শেষ করতে না পারায় নারী শ্রমিকদের ওপর সহিংসতা ও নির্যাতনের ঝুঁকিও বাড়ছে।

তবে চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশ পোশাক খাতের রূপান্তরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। কারখানায় পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশে ‘লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন’ (লিড) সনদপ্রাপ্ত পোশাক কারখানার সংখ্যা ২৭০ ছাড়িয়ে গেছে।

শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়া জুড়েই এখন গরমের মারাত্মক তাণ্ডব চলছে। তীব্র তাপদাহের কারণে এই অঞ্চলে প্রতি বছর প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ পূর্ণকালীন কাজের সমপরিমাণ শ্রম উৎপাদনশীলতা নষ্ট হচ্ছে। এর প্রভাবে ২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি প্রায় ৭ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে।

স্বাস্থ্যঝুঁকির ভয়াবহতা তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০০ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতে তাপদাহে মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। ২০৭০ সাল নাগাদ এই অঞ্চলের প্রায় ৫২ কোটি মানুষ বছরের অন্তত এক মাস চরম ও বিপজ্জনক গরমের মুখোমুখি হবে, যা বর্তমান পরিস্থিতির তুলনায় চার গুণ বেশি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছেন কম আয়ের মানুষ, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক, নারী, প্রবীণ ও শিশুরা।

দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে বিশ্বব্যাংকের সহসভাপতি জোহানেস জুট বলেছেন, উত্তাপসহনশীল নগর গড়ে তোলার বিষয়টি কেবল মানুষকে গরম থেকে বাঁচানোর উপায় নয়; এর মূল লক্ষ্য হলো মানুষের চাকরি রক্ষা করা, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং শহরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাকা সচল রাখা। এখন থেকেই সঠিক ও লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ নিলে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

চাঁদপুরে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারে ৬ যানবাহনকে জরিমানা

ঢাকায় শুষ্ক আবহাওয়া, কমতে পারে দিনের তাপমাত্রা

বাংলাদেশে জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু রক্ষায় ১২ সংস্থার সঙ্গে ইউএনডিপির চুক্তি

সড়ক দুর্ঘটনার আচরণগত ঝুঁকি নিরসনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে মতবিনিময় সভা

২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৬ মৃত্যু

ভিভো ভি৮০: নতুন রং ও নতুন ডিজাইনে আসছে নতুন চমক

vivo V80: Arriving in a New Colour with a New Design

ক্রোনস ও আলসারেটিভ কোলাইটিস: দুই রোগের পার্থক্য, লক্ষণ ও চিকিৎসা

জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগাতে বাংলাদেশের হাতে দুই দশক: বিশ্বব্যাংক

Xiaomi Unveils REDMI 17 5G Featuring a Snapdragon 5G Processor

স্ন্যাপড্রাগন ফাইভজি প্রসেসরসহ রেডমি ১৭ ফাইভজি উন্মোচন করল শাওমি

আগামী গ্রীষ্মের আগে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে জাতীয় গ্রিডে: প্রধানমন্ত্রী