ঢাকাসোমবার , ৬ জুলাই ২০২৬
  1. সর্বশেষ

জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব ঠেকাতে বিশ্বজুড়ে জোরালো আহ্বান

প্রতিবেদক
tset
৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৬ সকাল

Link Copied!

বিপ্লব হোসাইন: পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা যখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি, ঠিক তখনই ২০২৬ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিশ্বজুড়ে জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল জলবায়ু সংকট মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে সম্মিলিত উদ্যোগ।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে এবারের আনুষ্ঠানিক আয়োজনের স্বাগতিক ছিল আজারবাইজান। বিশ্বজুড়ে সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, গবেষক, পরিবেশবাদী এবং সাধারণ মানুষ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

জাতিসংঘের মহাসচিবের সতর্কবার্তা

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, গত ১১ বছর ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম ১১ বছর। বিশ্ব সাময়িকভাবে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির সীমা অতিক্রমের পথে রয়েছে।

তিনি বলেন, এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই উষ্ণতার সময়কালকে যতটা সম্ভব স্বল্প ও নিরাপদ রাখা এবং দ্রুত বৈশ্বিক তাপমাত্রা কমিয়ে আনা।

গুতেরেসের মতে, এর জন্য জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর, মিথেন গ্যাসের নির্গমন হ্রাস, বন-ভূমি ও সমুদ্রের সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অভিযোজন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রতিশ্রুত জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

এল নিনোর আশঙ্কায় নতুন উদ্বেগ

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) ইতোমধ্যে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ, খরা, দাবানল ও চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP) বলছে, বর্তমান বাস্তবতায় চরম তাপ এখন বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বিস্তার লাভ করা এবং সবচেয়ে প্রাণঘাতী জলবায়ু ঝুঁকির একটি।

আজারবাইজানের অঙ্গীকার

বিশ্ব পরিবেশ দিবসের আয়োজক দেশ আজারবাইজানের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদমন্ত্রী রশাদ ইসমাইলভ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে কোনো দেশই মুক্ত নয়।

তিনি জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ করার পাশাপাশি ২০৩৫ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ ৪০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একই সময়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ৩০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

UNEP: এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার সময়

UNEP-এর নির্বাহী পরিচালক ইঙ্গার অ্যান্ডারসেন বলেন, পৃথিবী বহু বছর ধরেই সংকেত দিয়ে আসছে যে পরিবেশগত সীমা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।

তার ভাষায়, জলবায়ু পরিবর্তনের গতি কমাতে এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে যেসব দেশ ও জনগোষ্ঠী জলবায়ু সংকটের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী, তাদের আরও বড় ভূমিকা রাখতে হবে।

দুই হাজারের বেশি কর্মসূচি

এবারের বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দুই হাজারেরও বেশি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। চিলি ও কেনিয়ায় পরিবেশবিষয়ক তথ্য সমৃদ্ধ করতে উইকিপিডিয়া সম্পাদনা কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। সেখানে শতাধিক নিবন্ধ হালনাগাদ এবং নতুন পরিবেশবিষয়ক তথ্য সংযোজন করা হয়েছে।

‘৫০@৫০’ উদ্যোগে তাপপ্রবাহ মোকাবিলা

চরম তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় UNEP নতুন ‘৫০@৫০’ উদ্যোগ চালু করেছে। এতে বিশ্বের ৫০টিরও বেশি শহর যুক্ত হয়েছে।

ফ্রান্সের প্যারিস, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন, নাইজেরিয়ার লাগোস, তুরস্কের আন্টালিয়াসহ বিভিন্ন শহর তাপপ্রবাহ মোকাবিলার সফল অভিজ্ঞতা ও টেকসই শীতলীকরণ প্রযুক্তি বিনিময় করছে।

পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির বিস্তার

বিশ্ব পরিবেশ দিবসের আগে UNEP ‘Clean technologies that are delivering for the climate’ শীর্ষক একটি নীতিপত্র প্রকাশ করেছে।

এতে বলা হয়েছে, সৌরবিদ্যুৎ, বৈদ্যুতিক যানবাহন, টেকসই শীতলীকরণ প্রযুক্তি ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এখন আর ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নয়; বরং দ্রুত বৈশ্বিক মূলধারায় পরিণত হচ্ছে। ব্যয় কমে যাওয়ায় এসব প্রযুক্তির ব্যবহারও দ্রুত বাড়ছে।

জলবায়ু নিয়ে বৈশ্বিক প্রচারণা

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে UNEP প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক ‘ক্লাইমেট ডান্স চ্যালেঞ্জ’ চালু করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাজারো মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অংশ নিয়েছেন এই প্রচারণায়।

একই সঙ্গে ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, কেনিয়া, বেলজিয়ামসহ বিভিন্ন দেশে জলবায়ু সচেতনতা বাড়াতে বিলবোর্ড, আলোকসজ্জা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বন্য ঘোড়া ফিরল নিজ আবাসে

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে কাজাখস্তানের স্তেপ অঞ্চলে ২০০ বছরেরও বেশি সময় পর বিশ্বের শেষ আটটি সত্যিকারের বন্য ঘোড়া অবমুক্ত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ঘোড়া ঘাসভূমির পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, দাবানলের ঝুঁকি কমানো এবং মাটিতে কার্বন সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

২০২৭ সালের আয়োজন সার্বিয়ায়

UNEP জানিয়েছে, আগামী ২০২৭ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের আনুষ্ঠানিক আয়োজক দেশ হবে সার্বিয়া।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন আরও প্রকট হচ্ছে। তাই বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণ, গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমানো এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এখনই সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান বন্ধে কঠোর হচ্ছে সরকার

vivo Y500 Set to Debut with Pearl-Inspired Elegance

ভিভো ওয়াই৫০০ আসছে পার্ল-অনুপ্রাণিত নান্দনিকতায়

ফেনীতে পিকআপভ্যানের চাপায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিহত

ঘুমন্ত দুই বোনের ঘরের ওপর পাথরবোঝাই ট্রাক, স্কুলছাত্রী নিহত

আমিনবাজারে ময়লা সরিয়ে হবে বৃক্ষরোপণ

দেশের ৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব ঠেকাতে বিশ্বজুড়ে জোরালো আহ্বান

২০২৭ সালের এপ্রিলে মতিঝিল-কমলাপুরে চলবে মেট্রোরেল

ইনজেকশন নয়, এবার নাজাল স্প্রেতেই দূর হবে যক্ষ্মা

দেশে প্রথমবারের মতো গর্ভস্থ শিশুকে অ্যানাস্থেসিয়া প্রদান

গোয়াইনঘাটে মোটরসাইকেল গাছে ধাক্কা, প্রাণ গেল তিন স্কুলছাত্রের