
সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ হামের উপসর্গে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ হাজার ৫৭ জনের মধ্যে।
রোববার (২৮ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১২ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৩ শিশু এবং সন্দেহজনক হামের উপসর্গে মারা গেছে আরও ৬১৯ শিশু।
গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে ১১৬ জনের হাম পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৯৪১ জন। একই সময়ে ৮৮৯ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসা শেষে ৮৬৫ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৯ হাজার ২০৭ এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ৭১০। এ সময়ে মোট ৮২ হাজার ৮৪৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৭৯ হাজার ১৫২ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যমতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে সাধারণত রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
হামের প্রধান উপসর্গের মধ্যে রয়েছে উচ্চ জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া (কনজাংটিভাইটিস), মুখের ভেতরে সাদা দাগ (কপলিক স্পটস) এবং শরীরজুড়ে লাল ফুসকুড়ি বা র্যাশ।
বিশেষজ্ঞরা জানান, হামের কারণে শিশুদের মারাত্মক ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, কানে সংক্রমণ এবং মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। এসব জটিলতার কারণেই অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের সময়মতো হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণ এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।