
ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চল। তবে জাপানে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি এবং তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া যায়নি।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, জাপানে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৯। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কুজি শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং এটি ভূপৃষ্ঠের ৫১ দশমিক ৭ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হানে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্য মন্ত্রিসভা সচিব মিনোরু কিহারা জানিয়েছেন, এ ভূমিকম্পে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই এবং এখন পর্যন্ত হতাহত বা পারমাণবিক স্থাপনায় কোনো অস্বাভাবিকতার খবর পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পের পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইস্ট জাপান রেলওয়ে কোম্পানি (জেআর ইস্ট) শিন-আওমোরি ও টোকিওর মধ্যকার বুলেট ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
অন্যদিকে, বুধবার (২৪ জুন) দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২ এবং দ্বিতীয়টির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল কারাবোবো অঙ্গরাজ্যে, যা রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি প্রথমটির মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর আঘাত হানে।
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির উত্তর উপকূলীয় অঞ্চল লা গুয়াইরা, আরাগুয়া, কারাবোবো ও ফালকোন। প্রধান দুটি ভূমিকম্পের পর দেশটিতে ২০টিরও বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে।
এদিকে ভেনেজুয়েলার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসা সামগ্রী এবং মানবিক সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।
ইউএসজিএসের প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ভূমিকম্পের কারণে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা ৪৪ শতাংশ এবং এক লাখের বেশি মানুষের প্রাণহানির সম্ভাবনা প্রায় ৩০ শতাংশ।
তবে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান এখনো প্রকাশ করা হয়নি।