ঢাকাসোমবার , ২ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

পদ্মা ব্যারেজ: ৭ কোটি মানুষের জন্য পানি নিরাপত্তার নতুন পরিকল্পনা

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
৮ জুন ২০২৬, ৩:১৬ বিকাল

Link Copied!

দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ক্রমবর্ধমান পানি সংকট, কৃষি নির্ভরতা এবং নদী ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পদ্মা নদীর ওপর একটি বৃহৎ ব্যারেজ নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত এই “পদ্মা ব্যারেজ” প্রকল্পের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটি রাজবাড়ীর পাংশা এলাকায় পদ্মা নদীর ওপর ১.৩ মাইল দীর্ঘ একটি অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে বাস্তবায়িত হবে। এতে প্রায় ২৩.৫ লক্ষ একর-ফুট (প্রায় ৭৬৬ বিলিয়ন গ্যালন) পানি সংরক্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৭ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উপকৃত হতে পারেন।

কৃষি, পানি ও পরিবেশে সম্ভাব্য প্রভাব

বাংলাদেশে বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে তীব্র পানি সংকট দেখা দেয়। এই বাস্তবতায় পদ্মা ব্যারেজকে নদীর পানির স্তর নিয়ন্ত্রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ব্যারেজের গেট ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রিতভাবে সরবরাহ করা হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সেচ ব্যবস্থা উন্নত হওয়া, নদ-নদীতে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি, মাছের উৎপাদন এবং লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গোরাই–মধুমতি নদী ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন নদীর পুনরুজ্জীবনেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রকল্প নথিতে আরও বলা হয়েছে, ব্যারেজ ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর মাধ্যমে প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

কাঠামো ও পরিকল্পনা

প্রস্তাবিত প্রকল্পে স্পিলওয়ে, আন্ডারস্লুইস গেট, ফিশ পাস, নেভিগেশন লক, গাইড বান্ড ও এমব্যাঙ্কমেন্টসহ আধুনিক নদী নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন, পলি নিয়ন্ত্রণ, নৌ-চলাচল এবং নদী তীর সংরক্ষণ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পটি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বাস্তবায়িত হবে। এর প্রথম পর্যায়ের কাজ ২০২৬ সালের জুলাই থেকে শুরু হয়ে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট ও চ্যালেঞ্জ

পদ্মা নদী, যা গঙ্গা নদীর বাংলাদেশ অংশ, দেশের কৃষি, মৎস্য, পরিবহন ও পানীয় জলের অন্যতম প্রধান উৎস। তবে শুষ্ক মৌসুমে উজান থেকে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় নদীভিত্তিক জীবনযাত্রা ও কৃষি উৎপাদনে চাপ তৈরি হয়।

এছাড়া সীমান্তবর্তী নদী ব্যবস্থাপনা ও পানি বণ্টন ইস্যুও এই প্রকল্পের সঙ্গে পরোক্ষভাবে যুক্ত বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অবকাঠামো নয়, পানি প্রবাহ, পলি ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এই প্রকল্পের সফলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সম্ভাবনা ও সতর্কতা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যারেজ প্রকল্পটি শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ ও কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তবে উজান থেকে পর্যাপ্ত পানি প্রবাহ না থাকলে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাওয়া কঠিন হবে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত পলি জমা, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পরিবর্তন এবং পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে।

সব মিলিয়ে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পকে বাংলাদেশের পানি ব্যবস্থাপনায় একটি বড় কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তরুণ ইনফ্লুয়েন্সার জেজুনের

হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক-নার্স সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

সময়মতো ন্যায্যমূল্যে কৃষকের কাছে সার পৌঁছানোর নির্দেশ কৃষিমন্ত্রীর

৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকায় পদ্মা ব্যারাজ, বদলে যাবে ১৯ জেলার চিত্র?

বাইন্যান্সের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে ৬৩০ কোটি ডলার চুরি, নেপথ্যে কারা?

শুঁটকিতেও মিলল বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক: শীর্ষে লইট্টা ও চিংড়ি

যুদ্ধে বিপর্যস্ত কৃষ্ণসাগর: সাড়ে ৪ বছরে ১ লাখ ২০ হাজার ডলফিনের মৃত্যু

সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের জীবন বাঁচাতে তরুণদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও সিপিআর প্রশিক্ষণ

হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় দুই শিশুর মৃত্যু

কৃষকের কাছে সময়মতো ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছানোর তাগিদ কৃষিমন্ত্রীর

Tourism Fair Concludes with Tk 43 Crore in Business Over Three Days

তিন দিনে ৪৩ কোটি টাকার ব্যবসা, শেষ হলো পর্যটন মেলা