
অকালমৃত্যু ও তামাকজনিত রোগ কমাতে সিগারেটের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে তামাকবিরোধী দুটি সংগঠন। প্রস্তাবে প্রতি শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য সর্বনিম্ন ১৭ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এবং ইউনাইটেড ফোরাম অ্যাগেইনস্ট টোব্যাকো আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সিগারেটের মূল্য বাড়ানো হলে একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে, অন্যদিকে তামাকের ব্যবহারও কমবে। এজন্য সিগারেটকে চারটি স্তরে ভাগ করে নতুন মূল্য ও কর কাঠামোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রিমিয়াম স্তরের ১০ শলাকার প্রতি প্যাকেটের দাম ২০০ টাকা নির্ধারণ এবং এর ওপর ৬৭ শতাংশ আবগারি শুল্ক ও প্রতি প্যাকেটে নির্দিষ্ট ৪ টাকা কর আরোপের দাবি জানানো হয়েছে। এতে প্রতিটি সিগারেটের খুচরা মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ৩৫ টাকা।
এছাড়া উচ্চ স্তরের সিগারেটের প্রতি প্যাকেটের দাম ১৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি শলাকার দাম হবে প্রায় ২৫ টাকা ৪৫ পয়সা।
মধ্যম ও নিম্ন স্তরের সিগারেটের ক্ষেত্রেও মূল্য বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনগুলো। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০ শলাকার প্রতি প্যাকেটের দাম ৮০ ও ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা করা হলে প্রতি শলাকার সর্বনিম্ন মূল্য দাঁড়াবে ১৭ টাকা ১ পয়সা।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, ধূমপান ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। প্রতি বছর তামাকজনিত রোগে বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। সিগারেটের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নেওয়া গেলে বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা কমবে বলে তারা মনে করেন।