বাংলাদেশে নগর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা দূর করতে এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আজ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো ‘কমিউনিটি-লেড রেসপনসিভ অ্যান্ড ইফেক্টিভ আরবান হেলথ সিস্টেম’ (CHORUS) প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠান। আজ রবিবার (২৬ এপ্রিল ২০২৬) হোটেল সারিনায় আর্ক (ARK) ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নীতিনির্ধারক, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, উন্নয়ন সহযোগী, গবেষক এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে আর্ক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক রুমানা হক বাংলাদেশের নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “কোরাস প্রকল্পের অন্যতম প্রধান শিক্ষা হলো—নগর স্বাস্থ্যের সমস্যার কোনো একক সমাধান নেই। সুশাসন, অর্থায়ন, সেবা প্রদান পদ্ধতি, দক্ষ জনবল এবং তথ্য ব্যবস্থাকে সমন্বিতভাবে শক্তিশালী করতে হবে, যেখানে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ থাকবে কেন্দ্রবিন্দুতে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই চ্যালেঞ্জ শুধু বাংলাদেশের নয়; দ্রুত নগরায়ন এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপের এই চিত্র অন্যান্য কোরাসভুক্ত দেশগুলোতেও (নেপাল, ঘানা ও নাইজেরিয়া) দৃশ্যমান। বর্তমান জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ বর্তমানে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করছে। এটি কেবল একটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয়, বরং এটি একটি স্পষ্ট সংকেত যে—সেবা প্রদান ও সমন্বয়হীনতার ঘাটতি থাকলে অর্জিত সাফল্য দ্রুত ম্লান হয়ে যেতে পারে।”
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের (DGME) মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, “যারা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার কার্যকর পথ খুঁজছেন তাদের উচিত বর্তমান সরকারের ইস্তেহারের দিকে নজর দেওয়া।” তিনি আরও যোগ করেন, “ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মতো স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর মাধ্যমে কৌশলগত অংশীদারিত্ব, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (PPP) মডেল এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে iBAS++ এর মতো সিস্টেমের সংহতকরণ অত্যন্ত জরুরি।”
ব্রিটিশ হাইকমিশন ঢাকার স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডা. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “গবেষণার প্রাপ্ত ফলাফলগুলোকে কার্যকর নীতিমালায় রূপান্তর করতে হবে, বিশেষ করে সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
পরবর্তীতে একটি প্যানেল আলোচনায় নগর দরিদ্রদের স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যবহারিক কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন বিশেষজ্ঞরা। এতে অংশ নেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহমুদা আলী; রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-এর সাবেক মহাপরিচালক ডা. মাহমুদুর রহমান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ (NCDC) শাখার সাবেক লাইন ডিরেক্টর ডা. সৈয়দ জাকির হোসেন এবং ঢাকাস্থ সুইডিশ দূতাবাসের সিনিয়র হেলথ অ্যাডভাইজার মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, কোরাস (CHORUS) একটি বহুজাতিক গবেষণা কনসোর্টিয়াম যা বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়, বহুমাত্রিক সহযোগিতা এবং অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় কাজ করে। বাংলাদেশে নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করতে এই প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ ও সুপারিশ প্রদান করেছে।


