ঢাকাসোমবার , ২৯ জুন ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. লাইফস্টাইল

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সংস্কৃতির টানে: ২০২৪ সালের পর্যটকদের সবচেয়ে পছন্দের দেশ

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
৯ অগাস্ট ২০২৫, ১:৫৩ বিকাল

Link Copied!

একটা দেশের গল্প শুরু হতে পারে তার এক কাপ কফি দিয়ে। আবার কোথাও সূর্যাস্তের রঙে মিশে থাকে সাগরের নোনা হাওয়া। কারও কাছে ঘুরে বেড়ানো মানে পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে নিঃশ্বাস নেওয়া, আবার কারও কাছে তা শহরের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া কোনো পুরনো বইয়ের দোকান খুঁজে পাওয়া। ঠিক এমনই রঙবেরঙের অভিজ্ঞতার খোঁজে, ২০২৪ সালে মানুষ ভিড় করেছে বিশ্বের নানা প্রান্তে। করোনার দীর্ঘ ছায়া পেরিয়ে পৃথিবী যেন আবার তার চেনা ছন্দে ফিরেছে—আর সেই ছন্দের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেড়েছে আন্তর্জাতিক পর্যটনের ঢেউ।

২০২৪ সালে জাতিসংঘের পর্যটন সংস্থা (UNWTO) এবং ইউরোমনিটরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা ২০১৯ সালের রেকর্ডকে ছুঁয়ে ফেলেছে। এই বছর সারা বিশ্বে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন পর্যটক সীমান্ত অতিক্রম করেছেন। তবে সবাই তো আর একই গন্তব্যে যান না। কেউ যান ইতিহাস ছুঁতে, কেউ যান প্রকৃতি ছুঁয়ে দেখতে, আবার কেউ শুধুই যান কিছুটা নিঃসঙ্গ সময় কাটাতে। কিন্তু তারপরও কিছু দেশ বারবার ফিরে আসে সবার তালিকায়। কারণ সেসব দেশে শুধু পর্যটককে স্বাগত জানানো হয় না, তাকে এক অভিজ্ঞতার ভেতর ডুবিয়ে দেওয়া হয়।

২০২৪ সালে যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি পর্যটক আকর্ষণ করেছে, সেগুলোর তালিকা নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এটি যেমন অর্থনৈতিক উন্নয়নের সূচক, তেমনি বিশ্বব্যাপী মানুষের সাংস্কৃতিক আগ্রহ, খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনচর্চার দিকেও আলোকপাত করে। এবার এক নজরে দেখা যাক, ২০২৪ সালে কোন দেশগুলো ছিল ভ্রমণপিপাসুদের সবচেয়ে পছন্দের গন্তব্য, এবং কেনই বা মানুষ বারবার ছুটে যাচ্ছে সেখানে।

সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ করা দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ফ্রান্স। হ্যাঁ, সেই চিরপরিচিত দেশ যার প্যারিস শহরে প্রেম, শিল্প আর খাবারের এক মায়াবী সংমিশ্রণ। ২০২৪ সালে ফ্রান্সে গেছেন প্রায় ৯০ মিলিয়নের মতো পর্যটক। প্যারিস অলিম্পিক আয়োজনের সুবাদে বছরজুড়ে দেশটিতে আন্তর্জাতিক আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। আইফেল টাওয়ারের ছায়ায় ছবি তোলা, লুভর মিউজিয়ামে মোনালিসার মুখোমুখি হওয়া কিংবা প্যারিসের রাস্তায় পেস্ট্রি আর ওয়াইনের স্বাদ নেওয়া—সবকিছুই যেন এক অনন্য জীবনানুভূতি। শুধু প্যারিস নয়, প্রোভেন্সের সূর্যমুখী ক্ষেত, নীসের উপকূল, বা বোর্দোর আঙ্গুর বাগান—ফ্রান্স প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে দিয়েছে এক অভিজাত ভ্রমণ অভিজ্ঞতা।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্পেন, যেখানে ছায়া পড়ে ইতিহাস আর ছন্দ বাজে ফ্ল্যামেংকোর তালে। ৮৪ মিলিয়ন পর্যটক ভিড় করেছে দেশটির বার্সেলোনা, মাদ্রিদ, সেভিয়া আর আন্দালুসিয়ার অলিগলিতে। স্পেন যেন একসঙ্গে পুরোনো পৃথিবীর ধ্বংসাবশেষ আর আধুনিক জীবনের উত্তেজনা ধারণ করে। গাউডির অপূর্ব স্থাপত্য, লা রাম্বলার প্রাণবন্ততা আর বাস্ক অঞ্চলের রান্না—এসবই পর্যটকদের বারবার টানে।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ২০২৪ সালে প্রায় ৭৯ মিলিয়ন পর্যটককে স্বাগত জানিয়েছে। কেউ গেছে নিউ ইয়র্কের স্কাইলাইন দেখতে, কেউ গেছে গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের বিশালতা অনুভব করতে। আবার অনেকেই লস অ্যাঞ্জেলেস, মিয়ামি বা হাওাইয়ের সৈকতের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বৈচিত্র্যময় ভৌগোলিক গঠন, বহু সাংস্কৃতিক সমাজ আর প্রচুর বিনোদনকেন্দ্র একে পর্যটকদের জন্য এক অনন্য গন্তব্যে পরিণত করেছে।

ইতালি বরাবরের মতোই তার রোমান ইতিহাস আর রোমাঞ্চকর খাবারের মাধ্যমে চতুর্থ অবস্থান দখল করেছে। ৭৩ মিলিয়নের বেশি পর্যটক ২০২৪ সালে ছুটে গেছে রোমের কলোসিয়াম, ভেনিসের জলপথ বা ফ্লোরেন্সের শিল্পভাণ্ডার দেখতে। ইতালির প্রতিটি শহর যেন একেকটি জীবন্ত যাদুঘর—যেখানে প্রতিটি পাথর ইতিহাসের গল্প বলে।

চীন, পঞ্চম অবস্থানে থেকেও এই তালিকায় একটি বিশেষ গুরুত্ব রাখে। ৬৮ মিলিয়নের বেশি বিদেশি পর্যটক গেছেন দেশটিতে, যদিও অভ্যন্তরীণ পর্যটন এখানকার প্রধান শক্তি। গ্রেট ওয়াল, তিয়ানানমেন স্কয়ার, গুইলিনের পাহাড় কিংবা শাংহাইয়ের হাই-টেক শহর—চীন একযোগে প্রাচীনতা ও আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটায়।

পরবর্তী দেশগুলো—তুরস্ক, মেক্সিকো, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং জার্মানি—তাদের নিজস্ব ভৌগোলিক সৌন্দর্য, ইতিহাস এবং অতিথিপরায়ণতার কারণে উল্লেখযোগ্য পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিত।

তুরস্কের ইস্তানবুল একাই হাজার বছরের সভ্যতার মিলনস্থল। এটি এমন এক শহর, যেখানে আজান আর গির্জার ঘণ্টাধ্বনি পাশাপাশি বাজে। ২০২৪ সালে দেশটিতে প্রায় ৬০ মিলিয়নের বেশি পর্যটক গিয়েছেন, যার অনেকেই ক্যাপাডোকিয়ার আকাশে হট এয়ার বেলুনের অভিজ্ঞতা নিতে ছুটে গেছেন।

মেক্সিকো, যার গন্তব্য ক্যানকুন কিংবা চিচেন ইত্জা, ছিল প্রায় ৫০ মিলিয়নের কাছাকাছি পর্যটকদের আকর্ষণকেন্দ্র। এই দেশ তার সমুদ্রতট, ঐতিহাসিক মায়া সভ্যতা এবং উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়।

 

এশিয়ার রত্ন থাইল্যান্ড বরাবরই ব্যাকপ্যাকার, বিলাসী পর্যটক এবং খাবারপ্রেমীদের স্বর্গ। ২০২৪ সালে এখানে ৪০ মিলিয়নের বেশি পর্যটক এসেছে, অনেকেই ব্যাংককের রাতের বাজার, চিয়াং মাইয়ের মন্দির এবং ফুকেটের সৈকতে ছুটি কাটিয়েছে।

যুক্তরাজ্য, মূলত লন্ডনের চৌম্বকীয় আকর্ষণের কারণে তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। তাছাড়া স্কটল্যান্ডের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ওয়েলসের পাহাড় আর ইংলিশ গ্রামের শান্ত নিসর্গও পর্যটকদের ডাকে।

জার্মানি, প্রযুক্তি আর সংস্কৃতির যুগলতায় মুগ্ধ করেছে প্রায় ৩৫ মিলিয়নের মতো পর্যটককে। বার্লিনের দেয়াল আর বাভারিয়ার দুর্গগুলো যেন ইতিহাস ও সৌন্দর্যের এক অবিচ্ছেদ্য জোট।

এই তালিকায় আরও যেসব দেশ স্থান করে নিয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, গ্রিস, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। জাপানের কিয়োটো বা টোকিওতে ঐতিহ্য আর প্রযুক্তির দ্বৈত অভিজ্ঞতা পর্যটকদের জন্য এক মুগ্ধতার জগৎ তৈরি করে। আর দক্ষিণ কোরিয়ার ক-পপ সংস্কৃতি, সৌন্দর্যচর্চা আর খাবার মানুষকে আগ্রহী করে তোলে।

গ্রীসের দ্বীপপুঞ্জ, অস্ট্রেলিয়ার অপেরা হাউস, মালয়েশিয়ার পেনাং এবং দুবাইয়ের গগনচুম্বী ভবন—সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী পর্যটনের একটা সুপরিকল্পিত জাল বিস্তার পেয়েছে ২০২৪ সালে।

এই তালিকা কেবল পর্যটকের সংখ্যা নয়, বরং মানুষের রুচি, সংস্কৃতি ও স্বপ্নের একটি প্রতিবিম্ব। কোথাও কেউ এক কাপ কফির সাথে ইতিহাসের নিঃশব্দতা খোঁজেন, কেউ আবার সমুদ্রের ধারে দাঁড়িয়ে জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে পান। এই বৈচিত্র্যই আমাদের পৃথিবীকে করে তোলে গল্পসমৃদ্ধ, দৃষ্টিনন্দন আর স্বাদমণ্ডিত—এক অবিরাম যাত্রার নাম।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

সমুদ্রের কার্বন প্রযুক্তি ব্যবহারে নতুন সতর্কতা, হতে পারে হিতে বিপরীত

বর্জ্যের পাশাপাশি শীতলক্ষ্যায় বাড়ছে সাকার ফিশের আগ্রাসন

মিয়ানমার সীমান্তে ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প, কেঁপেছে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা

আজ দেশের সব মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুরু হচ্ছে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

১১ জেলায় দুপুরের মধ্যে ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা

বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা ভারতের তিন এলাকায় ভোরে পরপর তিনটি মৃদু ভূমিকম্প

ইউরোপে তীব্র তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে প্রায় ১ হাজার মৃত্যু

ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতি কমাতে ছোট প্যাকেটের ভোজ্যতেল বাজারজাতের আহ্বান

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ১,৪৩০

দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনেও শতভাগ সফলতার আশা: ডিএনসিসি প্রশাসক