
ইয়েমেন উপকূলে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, রোববার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় ইয়েমেনের আবিয়ান প্রদেশের শাকরা উপকূলে আরব সাগরের প্রচণ্ড ঝড়ে পড়ে নৌকাটি উল্টে যায়। এতে এখন পর্যন্ত ১৪৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে, নিখোঁজ রয়েছেন আরও অনেকেই।
নৌকাটিতে মোট ১৫৭ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের বেশিরভাগই ইথিওপিয়ার নাগরিক। আইওএম জানায়, এখন পর্যন্ত ৬৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং জীবিত উদ্ধার করা গেছে মাত্র ১২ জনকে। নিখোঁজ ৭৪ জনের বিষয়ে বলা হচ্ছে—তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে। মৃতদেহগুলো উপকূলবর্তী বিভিন্ন স্থানে ভেসে উঠছে। এপি জানিয়েছে, ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খানফার জেলায় ৫৪টি এবং জিনজিবার শহরের একটি মর্গে আরও ১৪টি মরদেহ নেওয়া হয়েছে।
আইওএম ইয়েমেন মিশনের প্রধান আবদুসাত্তোর এসোয়েভ বলেন, “নৌকাটি একটি বিপজ্জনক রুটে চলছিল, যেটি সাধারণত মানব পাচারকারীরা ব্যবহার করে। এই ঘটনা প্রমাণ করে, কী ভয়ংকর ঝুঁকি নিয়ে অভিবাসীরা যাত্রা করেন। পাচারকারীরা তাদের দুর্বলতা ও আর্তনাদকে পুঁজি করে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা সব রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—অভিবাসীদের জন্য নিরাপদ ও আইনি পথ নিশ্চিত করুন। পাচার প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও আইন প্রয়োগে আরও জোর দিতে হবে।”
আইওএম আরও জানায়, পাচারকারীরা এখন আরও নির্মম হয়ে উঠেছে। তারা নিরাপত্তা বাহিনীর নজর এড়াতে ইচ্ছাকৃতভাবে খারাপ আবহাওয়াতেও সমুদ্রযাত্রা করাচ্ছে। সংস্থাটি এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৬০ হাজারের বেশি অভিবাসী ইয়েমেন পাড়ি জমিয়েছেন। এ বছরের মার্চেও ধুবাব উপকূলে একই ধরনের ঘটনায় দুই নৌকা ডুবে গেলে ১৮০ জনেরও বেশি অভিবাসী প্রাণ হারান বা নিখোঁজ হন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইয়েমেন হয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে অভিবাসনের এই রুটটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক পথ হলেও প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথেই যাত্রা করছেন।