ঢাকাবুধবার , ৪ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. লাইফস্টাইল

ভবিষ্যতের দরজায় দাঁড়িয়ে: ২০৭৫ সালের অর্থনৈতিক বিশ্ব মানচিত্র

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
৩ মে ২০২৫, ১:৩০ বিকাল

Link Copied!

সম্প্রতি প্রকাশিত আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা Global Statistics-এর দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৭৫ সালের অর্থনৈতিক মানচিত্র হবে সম্পূর্ণ নতুন ও বিস্ময়কর। ২০২৫ সালের দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, পৃথিবীর দৃশ্যপট বদলে যাওয়ার প্রক্রিয়া এখনই শুরু হয়ে গেছে। যেসব দেশ একসময় ছিল প্রান্তিক, যাদের অর্থনীতি পশ্চিমা পরাশক্তির করুণার ওপর নির্ভর করত, সেই দেশগুলোর মধ্যেই এখন নেতৃত্বের বীজ রোপিত হচ্ছে।

এই নতুন অর্থনৈতিক জাগরণ ঘটছে মূলত এশিয়া ও আফ্রিকার নানা অঞ্চলে। ২০৭৫ সালের দিকে গিয়ে দেখা যাবে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে থাকবে চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, এমনকি বাংলাদেশও। সেই তালিকায় পশ্চিমা দেশগুলোর অনেকেই থাকবে পেছনের সারিতে।

চীন ও ভারতের ভবিষ্যৎ আধিপত্য
২০৭৫ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি হবে চীন, যার মোট জিডিপি দাঁড়াবে প্রায় ৫৭ ট্রিলিয়ন ডলার। দীর্ঘমেয়াদি কৌশল, প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরতা, এবং মহাসড়ক থেকে মহাকাশ পর্যন্ত বিস্তৃত বিনিয়োগের ফলে চীন এই অবস্থান অর্জন করবে। শুধু উৎপাদনশীলতা নয়, চীন হয়ে উঠবে বিশ্বের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত মূল কেন্দ্র।

ভারত থাকবে দ্বিতীয় স্থানে—৫২.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপি নিয়ে। ২০২৫ সাল থেকেই ভারত যে রূপান্তরের পথে হাঁটছে—উন্নত আইটি খাত, কৃষির আধুনিকীকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার—তা ২০৭৫ সালে গিয়ে তাদের এই সাফল্যে রূপ নেবে। ভারতের বিপুল জনসংখ্যা, বিশেষত তরুণ জনগোষ্ঠী, হবে তাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ।

যুক্তরাষ্ট্র: রূপান্তরের পথে
একসময় নিরঙ্কুশ অর্থনৈতিক আধিপত্য ধরে রাখা যুক্তরাষ্ট্র ২০৭৫ সালে এসে ৫১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপি নিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকবে। যদিও তারা শীর্ষস্থান হারাবে, কিন্তু প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও প্রতিরক্ষা খাতে তাদের আধিপত্য অব্যাহত থাকবে। অভ্যন্তরীণ বাজারের শক্তি এবং স্টার্টআপ সংস্কৃতি তাদের অর্থনীতিকে টিকে থাকার রসদ জোগাবে।

নতুন পরাশক্তির উত্থান
২০৭৫ সালের বিশ্বে শুধু চীন-ভারত-যুক্তরাষ্ট্রই নয়, আরও কয়েকটি দেশ নজর কেড়েছে তাদের দ্রুত উন্নয়নের মাধ্যমে।

১. ইন্দোনেশিয়া চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে উঠবে, ১৩.৭ ট্রিলিয়ন ডলার জিডিপি নিয়ে। সমুদ্র অর্থনীতি, কৃষি ও পর্যটন খাতে বিপুল উন্নয়ন ঘটবে।
২. নাইজেরিয়া পঞ্চম স্থানে থাকবে, জিডিপি হবে ১৩.১ ট্রিলিয়ন। জ্বালানি, কৃষি এবং আফ্রিকান ইউনিয়নে নেতৃত্ব তাদের এগিয়ে রাখবে।
৩. পাকিস্তান উঠে আসবে ষষ্ঠ স্থানে, ১২.৩ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি নিয়ে। অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তির বিস্তার এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে মজবুত করবে।

বাংলাদেশ: উন্নয়নের এক বিস্ময়
২০৭৫ সালে বাংলাদেশ ৬.৩ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি নিয়ে হবে বিশ্বের ১৬তম বৃহত্তম অর্থনীতি। বর্তমানের (২০২৫) কাঠামোগত বিনিয়োগ, রপ্তানির বৈচিত্র্য এবং জনসম্পদের দক্ষ ব্যবহারই বাংলাদেশের এই অগ্রগতির ভিত্তি তৈরি করবে।

উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হবে:
১. রপ্তানি বৈচিত্র্য: শুধু পোশাক শিল্প নয়, প্রযুক্তি পণ্য ও ওষুধশিল্প বাংলাদেশের নতুন রপ্তানি খাত হয়ে উঠবে।
২. মানবসম্পদ উন্নয়ন: কারিগরি শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষায় বিনিয়োগ বাংলাদেশের কর্মশক্তিকে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।
৩. ডিজিটালাইজেশন ও স্মার্ট সিটি: নগরায়ন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি নির্ভর প্রশাসনের ফলে উৎপাদনশীলতা ও বিনিয়োগ বাড়বে।
৪.নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ: নারী শ্রমিকদের ব্যাপক অংশগ্রহণ জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ হবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি ‘রোল মডেল’।

আফ্রিকার রূপান্তর
আফ্রিকার মধ্যেও ২০৭৫ সালে দুটি দেশ বিশেষভাবে উঠে আসবে:
১. মিশর, যার জিডিপি হবে ১০.৪ ট্রিলিয়ন ডলার। উত্তর আফ্রিকার বাণিজ্য, জ্বালানি ও প্রযুক্তিতে তারা নেতৃত্ব দেবে।
২. ইথিওপিয়া, যার জিডিপি হবে ৬.২ ট্রিলিয়ন ডলার। কৃষি থেকে শুরু করে বনায়ন, পর্যটন ও হাইড্রো-পাওয়ারে তারা অভাবনীয় উন্নয়ন ঘটাবে।

পশ্চিমা বিশ্বের অবস্থান: এক প্রাকৃতিক পরিবর্তন
জার্মানি, যুক্তরাজ্য, জাপান, ফ্রান্স—যারা একসময় অর্থনীতির শীর্ষে ছিল, ২০৭৫ সালে এসে তারা পিছিয়ে পড়বে।

এর পেছনে মূল কারণগুলো:
১. জনসংখ্যা সংকোচন ও প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি
২. প্রযুক্তি খাতে স্লো রেসপন্স
৩. অভিবাসন সংকট
৪. নতুন বাজারে প্রবেশে অনীহা

তবে এসব দেশের প্রযুক্তি ও গবেষণার ভিত্তি এখনও অনেক ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে।

উপসংহার: পরিবর্তনই চিরন্তন সত্য
২০৭৫ সালের অর্থনীতির এই রূপান্তরশীল মানচিত্র আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়—ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ভিত্তি গড়ে উঠে বর্তমানের সিদ্ধান্তে। নেতৃত্ব, সুশাসন, শিক্ষা ও সমতা—এই চারটি মূল উপাদানই নির্ধারণ করবে কোন দেশ অগ্রসর হবে, আর কে পিছিয়ে পড়বে। এক সময় যাদের বলা হতো “তৃতীয় বিশ্ব”, ভবিষ্যতে তারাই হয়ে উঠবে “নেতৃত্বের বিশ্ব”।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

Xiaomi Unveils REDMI 17 5G Featuring a Snapdragon 5G Processor

স্ন্যাপড্রাগন ফাইভজি প্রসেসরসহ রেডমি ১৭ ফাইভজি উন্মোচন করল শাওমি

আগামী গ্রীষ্মের আগে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে জাতীয় গ্রিডে: প্রধানমন্ত্রী

পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে সব প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দুই বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা

নেপালে অবতরণের সময় দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ, নিহত ১

বুয়েটের মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হলেই মিলবে ই-রিকশার নিবন্ধন

সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হলে ডিলারশিপ বাতিল: কৃষিমন্ত্রী

গ্যাস সংকটের মধ্যে নোয়াখালীতে নতুন গ্যাসের সন্ধান

এক দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে পাঁচ গুণের বেশি

হিমালয়ে বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা, ঝুঁকির মুখে প্রায় ৩ লাখ মানুষ

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে জরুরি প্রস্তুতি, কীসের আশঙ্কায় খাবার-পানি মজুতের পরামর্শ?