ঢাকাবুধবার , ৪ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. জনস্বাস্থ্য

এই গরমে শিশুদের যত্ন

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
৮ এপ্রিল ২০২৫, ১২:০৮ বিকাল

Link Copied!

প্রচণ্ড গরমে শিশুরা খুব সহজেই বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হয়। তাই এই গরমে শিশুদের স্বাস্থ্যের প্রতি বাবা-মায়ের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। যেমন-

১. শিশুদের গায়ের জামা পাতলা সুতি কাপড়ের ও ঢিলেঢালা হওয়া প্রয়োজন।

২. শিশুদের প্রতিদিন গোসল করাতে হবে: গোসল ছাড়াও শিশুর মাথাসহ সারা শরীর হালকা গরম পানিতে তোয়ালে বা গামছা ভিজিয়ে মুছিয়ে দিতে হবে। এতে তারা স্বস্তি পাবে।

৩. গরমে ঘেমে গেলে ঘামে ভেজা কাপড় বদলে দিতে হবে, তা না হলে ঠাণ্ডা কাশির সমস্যা লেগে থাকবে। ঘরের জানালা খোলা রাখতে হবে এবং ফ্যান চালাতে হবে। এয়ারকুলার চালালে কোনো সমস্যা নেই (তবে তাপমাত্রা শিশুর জন্য সহনীয় পর্যায়ে থাকলে ভালো)।

৪. ঘামাচির জন্য শিশুকে পরিষ্কার রাখতে হবে অর্থাৎ গোসলের সময় সাবান দিয়ে আলতো করে সারা শরীর ঘষে পরিষ্কার করতে হবে।

৫. গরমে শিশু ঠাণ্ডা পানি খেতে চাইবে; ঠাণ্ডা পানি না দেওয়াটাই শ্রেয়। যদি ঠাণ্ডা পানি একান্ত দিতেই হয় সে ক্ষেত্রে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানির সঙ্গে মিশিয়ে দিলে ভালো। তবে ঠাণ্ডা-কাশি যেন না লাগে সেদিকে বাবা-মায়ের সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

৬. গরমে প্রচুর পানি ও তরল খাবার, যেমন- ঘরের বানানো শরবত (তরমুজ, লেবুর শরবত ইত্যাদি) ডাবের পানি খাওয়াতে হবে। অত্যাধিক ঘামে শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দিতে পারে, তাই শিশু দিনে অন্তত ৫-৬ বার প্রস্রাব করছে কি-না, সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। গরমে ডায়াপার না পরানোই স্বাস্থ্যসম্মত। তবে শিশুকে ডায়াপার পরালে তা বার বার পাল্টে দিতে হবে। তা না হলে প্রস্রাবের রাস্তার চারপাশে ও উরুর জায়গাগুলোতে ঘাম জমে ঘা হয়ে যেতে পারে।

অনেক সময় গরমে ধূলাবালিতে শিশুদের এলার্জি জাতীয় সমস্যা হয়। তাই শিশুদের শরীরে যাতে ধুলাবালি কম লাগে সে ব্যাপারে বাবা-মায়ের খেয়াল রাখতে হবে। যদি ধূলাবালি লাগে সে ক্ষেত্রে শিশুর সারা শরীর পরিষ্কার পানিতে গামছা ভিজিয়ে মুছে দিলে ভালো।

বেশি গরমে বড়দের মতো শিশুরাও খেতে চায় না, তাই ওদের জোর করে খাওয়ানো ঠিক নয়। এতে বমি, বদ হজম ইত্যাদি হতে পারে। প্রচণ্ড গরমে শিশুরা রাস্তাঘাটে বিক্রি হওয়া শরবত বা আইসক্রিম, শসা, পেঁপে, ফলের রস ইত্যাদি যাতে না খেতে পারে, সেদিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে। তা না হলে ডায়রিয়া, বমি, টাইফয়েড, জন্ডিস ও অন্যান্য পেটের পীড়ায় শিশু আক্রান্ত হতে পারে।

গরমে শীতল হওয়ার জন্য শিশুরা পানির বিভিন্ন উৎস যেমন পুকুর, ডোবা অথবা অন্য কোনো পানির দিকে ঝুঁকতে পারে। শিশু পুকুর বা ডোবায় গোসল করলে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে যেন পুকুর বা ডোবার অপরিষ্কার পানি খেয়ে অসুস্থ না হয়। উল্লেখ্য, শিশু সাঁতার না জানলে পানিতে ডুবে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই পরিশেষে বলা যায়, প্রচণ্ড গরমে বাবা-মায়ের সচেতনতা ও কিছুটা সাবধানতাই পারে তার সন্তানকে সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে।

নোট: শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যপক ডা: মো: আবিদ হোসেন মোল্লার লিখিত ‘শিশু স্বাস্থ্যের খুঁটিনাটি’ বই থেকে নেওয়া হয়েছে তাঁর অনুমতিক্রমে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

নওগাঁয় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ব্যাংক কর্মচারীর মৃত্যু

সপ্তাহজুড়ে কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া? জানাল অধিদপ্তর

স্তনবৃন্তে স্পর্শ করলেই কেন হঠাৎ মন খারাপ, কী এই ‘স্যাড নিপল সিনড্রোম’?

upay Rewards Three Distributor Partners with Umrah Packages under ‘Shopner Umrah 2026’ Campaign

উপায়ের ‘স্বপ্নের ওমরাহ’ ক্যাম্পেইনে পুরস্কার পেলেন ৩ ডিস্ট্রিবিউশন পার্টনার

সাতক্ষীরায় ৭৫ শতাংশ জলবায়ু বাস্তুচ্যুত পরিবার তীব্র খাদ্য সংকটে

মিরপুর বেড়িবাঁধে বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৪

হাসপাতাল নেই ৬০ গ্রামে, অসুস্থ হলে আট ঘণ্টার নদীপথ পাড়ি

চাঁদপুরে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারে ৬ যানবাহনকে জরিমানা

ঢাকায় শুষ্ক আবহাওয়া, কমতে পারে দিনের তাপমাত্রা

বাংলাদেশে জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু রক্ষায় ১২ সংস্থার সঙ্গে ইউএনডিপির চুক্তি

সড়ক দুর্ঘটনার আচরণগত ঝুঁকি নিরসনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে মতবিনিময় সভা