ঢাকাশনিবার , ৮ অগাস্ট ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. জনস্বাস্থ্য

শব্দ দূষণ: বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও করণীয়

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
২৫ এপ্রিল ২০২৫, ৬:৩৭ বিকাল

Link Copied!

বাংলাদেশ, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা, বর্তমানে শব্দ দূষণের মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সুপারিশ অনুযায়ী, দিনের বেলায় শব্দের মাত্রা ৫৫ ডেসিবেল এবং রাতে ৪০ ডেসিবেলের নিচে থাকা উচিত। কিন্তু ঢাকায় গড় শব্দের মাত্রা ৭০ থেকে ৮০ ডেসিবেলের মধ্যে, যা অনেক সময় ১১৯ ডেসিবেল পর্যন্ত পৌঁছে যায় ।

শব্দ দূষণের প্রধান উৎস

যানবাহনের হর্ন: ঢাকায় যানবাহনের অব্যবহৃত হর্ন, বিশেষ করে হাইড্রোলিক হর্ন, শব্দ দূষণের প্রধান উৎস। যদিও ২০১৭ সালে হাইড্রোলিক হর্ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তবুও এগুলোর ব্যবহার এখনো অব্যাহত আছে ।

নির্মাণ কাজ: শহরের বিভিন্ন স্থানে চলমান নির্মাণ কাজ এবং অবকাঠামো উন্নয়ন শব্দ দূষণের মাত্রা বৃদ্ধি করছে।

উৎসব ও সামাজিক অনুষ্ঠান: নববর্ষের মতো উৎসবের সময় আতশবাজি ও উচ্চ শব্দের কারণে শব্দ দূষণ ৪২% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় ।

স্বাস্থ্যগত প্রভাব

শব্দ দূষণ মানুষের স্বাস্থ্যের উপর বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব ফেলে:

শ্রবণ শক্তি হ্রাস: একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের প্রায় ১১.৭% মানুষ শব্দ দূষণের কারণে শ্রবণ শক্তি হারিয়েছেন ।

মানসিক চাপ ও হৃদরোগ: দীর্ঘমেয়াদী উচ্চ শব্দের সংস্পর্শে থাকা মানসিক চাপ, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

ঘুমের ব্যাঘাত ও মনোযোগের অভাব: উচ্চ শব্দের কারণে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে এবং শিক্ষার্থীদের মনোযোগে প্রভাব ফেলে।

নিয়ন্ত্রণ ও উদ্যোগ

সরকার শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে:

নীরব এলাকা ঘোষণা: ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় ‘নীরব এলাকা’ ঘোষণা করা হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে শহরের অন্যান্য এলাকায় সম্প্রসারিত হবে ।

আইন ও জরিমানা: শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, গুরুতর শব্দ দূষণের জন্য সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা জরিমানা এবং ২ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে, এই আইনগুলোর কার্যকর প্রয়োগ এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে ।

সুপারিশ

আইনের কঠোর প্রয়োগ: শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা উচিত।

সচেতনতা বৃদ্ধি: জনসাধারণের মধ্যে শব্দ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

প্রযুক্তির ব্যবহার: শব্দ মাত্রা নিরীক্ষণের জন্য উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার এবং শব্দ নিরোধক যন্ত্রপাতি প্রয়োগ করা উচিত।

পরিবেশবান্ধব যানবাহন: বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বৃদ্ধি করে শব্দ দূষণ কমানো সম্ভব।

শব্দ দূষণ একটি নীরব ঘাতক। এর প্রতিকার এখনই না করলে ভবিষ্যতে এর প্রভাব আরও মারাত্মক হতে পারে। তাই সরকার, প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সাড়ে ৭ বছরে ঝরেছে ১৫ হাজারের বেশি প্রাণ

realme Set to Launch C100x with Exclusive Discount for Students on Daraz

শিক্ষার্থীদের জন্য দারাজে এক্সক্লুসিভ ডিসকাউন্ট নিয়ে আসছে রিয়েলমি সি১০০এক্স

গুরুদাসপুরে বাস-গরুবাহী টেম্পুর সংঘর্ষ, নিহত ৩

ক্রিট উপকূলে ২০২ অভিবাসী উদ্ধার, অধিকাংশই বাংলাদেশি

যান্ত্রিক ত্রুটিতে রোমে আটকা বিমান, কাল দুপুরে ছাড়বে বিজি-৩০৫

বাংলাদেশ থেকে আনারস আমদানির অনুমতি দিল পাকিস্তান

ফ্লু প্রতিরোধে বিশ্বে প্রথম এমআরএনএ টিকার অনুমোদন

সিরাজগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে চালকসহ নিহত ২, আহত ১০

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি কত?

ঢাকায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে, বাড়তে পারে তাপমাত্রা