ঢাকাসোমবার , ২ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. লাইফস্টাইল

দৃষ্টিনন্দন ছবি নয়, সেরা হতে ছবিতে থাকতে হবে আরও যা

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩১ সকাল

Link Copied!

২৩ হাজারেরও বেশি এন্ট্রির মাঝ থেকে যদি আপনাকে সেরা ফটোগ্রাফটি বেছে নিতে বলা হয়, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আপনি কোনটিকে প্রাধান্য দেবেন? দৃষ্টিনন্দন কম্পোজিশন, তীব্র আবেগ, অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি, নাকি এমন কোনো গল্প যা মনের কোণে চিরকাল রয়ে যায়?

‘অপো ফটোগ্রাফি কনটেস্ট ২০২৬’-এ ঠিক এই চ্যালেঞ্জটিই বিচারকদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছিল, যেখানে সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জমা পড়া হাজার হাজার ছবির মধ্য থেকে সেরাটি খুঁজে নেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন দেশের চারজন স্বনামধন্য ফটোগ্রাফার ও ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলার। বিচারকদের ভিন্ন ও স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি থেকে প্রতিটি ছবি মূল্যায়ন করা হয়েছিল। ফলে, হাজারো ছবির ভিড়ে শেষপর্যন্ত কোন ছবিটি সেরা হিসেবে উঠে আসবে, তা জানার কৌতূহল পুরো প্রতিযোগিতাকে আরও বেশি রোমাঞ্চকর করে তোলে।

বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে অপোর ‘এভরি ফটো টেলস এ স্টোরি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় তরুণ ফটোপ্রেমীদের স্মার্টফোনের ক্যামেরায় চারপাশের পৃথিবীকে নিজের দৃষ্টিতে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়। পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের সাথে যৌথভাবে আয়োজিত অপো রেনো১৫ সিরিজ ফাইভজি প্রেজেন্টস ‘অপো ফটোগ্রাফি কনটেস্ট ২০২৬’ মোট পাঁচটি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয়- পোর্ট্রেট, নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ, স্ট্রিট অ্যান্ড আর্কিটেকচার, লো লাইট ও হেরিটেজ অ্যান্ড কালচার।

বিপুলসংখ্যক ছবির মধ্য থেকে সেরাটি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিচারকরা কেবল কারিগরি নৈপুণ্যের দিকেই নজর দেননি। একটি ছবি কতোটা আবেগ তৈরি করতে পারে, তার মৌলিকত্ব, ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি, বিষয়বস্তুর উপস্থাপন ও গল্প বলার সক্ষমতাও মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হয়ে উঠেছিল।

পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও ফটোগ্রাফি বিভাগের প্রধান খন্দকার তানভীর মুরাদের মতে, সেরা ছবি বাছাইয়ের মূল বিষয়টি কেবল দৃষ্টিনন্দন কোনো দৃশ্য বন্দি করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি বলেন, “সাধারণ মুহূর্তের মাঝে অসাধারণ কিছু আবিষ্কার করার নামই ফটোগ্রাফি, আর অপো সেই দৃষ্টিভঙ্গিকে বাস্তব রূপ দিতে সহায়তা করে।” একটি সঠিক সৃজনশীল দৃষ্টিকোণ কীভাবে সাধারণ কোনো দৃশ্যকে অসাধারণ করে তোলে ও কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি, একজন ফটোগ্রাফারের ভিন্নভাবে দেখার সক্ষমতা যে কতোটা গুরুত্বপূর্ণ, তার এই বক্তব্যে সেটাই প্রতিফলিত হয়েছে।

অ্যাসিড সহিংসতার শিকার ভুক্তভোগীদের নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত কাজসহ ২৫ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফার শফিকুল আলম কিরণ মনে করেন, সবচেয়ে প্রভাবশালী ফটোগ্রাফি সেটাই, যা গভীর কোনো বার্তা বহন করে। তিনি বলেন, “অপোর সাথে ফটোগ্রাফি কেবল বিশেষ কোনো মুহূর্তকে ফ্রেমে বন্দি করা নয়; বরং সেই মুহূর্তের পেছনের আবেগময় স্মৃতিকে ধরে রাখা।’’ তিনি বর্তমান সময়ের ফটোগ্রাফারদের জন্য স্মার্টফোনকে একটি ‘থার্ড আই’ হিসেবে অভিহিত করেন, যা অত্যন্ত সহজলভ্য একটি সৃজনশীল মাধ্যম। এর মাধ্যমে তরুণরা নিজেদের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্বকে দেখার ও তা প্রকাশের সুযোগ পায়। প্রতিযোগিতায় জমা পড়া প্রতিটি ছবির বৈচিত্র্য বাংলাদেশি তরুণ ফটোগ্রাফারদের ক্রমবর্ধমান সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।

অ্যাওয়ার্ড-উইনিং ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফার ও ফটোজার্নালিস্ট কে এম আসাদ মনে করেন, কনটেস্টে জমা পড়া বিপুল পরিমাণ ছবি থেকে সেরাদের বাছাই করা ছিলো অন্যতম কঠিন কাজ। কেননা, সবগুলো ছবিই মানসম্মত ছিল। তিনি মানবিক, পরিবেশগত ও সামাজিক সমস্যাগুলো ডকুমেন্ট করার অভিজ্ঞতা থেকে ছবিগুলো মূল্যায়ন করেন। যেখানে একটি ছবির বিষয়, দৃষ্টিভঙ্গি, ছবির পেছনের কারিগরি দক্ষতা ও স্টোরিটেলিংয়ের সমন্বয় মার্কিং করা হয়। তিনি বলেন, “অপো ছবি তোলার একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করার মাধ্যমে প্রতিদিনের মুহূর্তগুলোকে স্মরণীয় গল্পে পরিণত করে।”

পাঁচ ক্যাটাগরিতে জমা পড়া এই আকর্ষণীয় ছবিগুলোর মধ্যে টেকনিকাল দিক থেকে নিখুঁত ছবি খুঁজে বের করাটা মূল চ্যালেঞ্জ ছিল না। বরং, চ্যালেঞ্জ ছিল এমন ছবি খুঁজে বের করা, যা দর্শককে এক মুহূর্ত থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করবে, ছবিটি দেখতে ও ছবির গল্পের সাথে তাদের কানেক্ট করতে বাধ্য করবে।

রাজোয়ানা চৌধুরী জিনিয়া মনে করেন, কনটেস্টে বিভিন্ন ক্যাটাগরি থাকায় ফটোগ্রাফির সবচেয়ে শক্তিশালী কোয়ালিটিটি প্রকাশিত হয়েছে; আর তা হচ্ছে একই পৃথিবীকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখা। তিনি বলেন, “পৃথিবীকে আমরা কীভাবে দেখি তা তুলে ধরার মাধ্যমে ফটোগ্রাফির সৌন্দর্য প্রকাশ পায়। আর এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে অপো আমাদের প্রয়োজনীয় টুল দেয়।” ইন্টিমেট পোর্ট্রেট ও রাস্তার বদলাতে থাকা মুহূর্ত থেকে শুরু করে ওয়াল্ডলাইফ, হেরিটেজ, আর্কিটেকচার ও চ্যালেঞ্জিং লো-লাইট সিন; প্রতিটি ছবি দেখিয়েছে কীভাবে লেন্সের পেছনের ব্যক্তিভেদে একই বিষয় সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হতে পারে। বিচারকদের সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে বলা যায়, একটি ‘পারফেক্ট’ ছবি তোলার কোনো আদর্শ ফর্মুলা নেই। একটি ছবি আবেগের কারণে জয়ী হতে পারে, কোনোটি এর নতুনত্বের কারণে; আবার কোনো ছবি দর্শকের কাছে কোনো একটি সাধারণ মুহূর্তকে ভিন্নভাবে তুলে ধরার সক্ষমতার কারণেও জয়ী হতে পারে।

আর এখানেই চূড়ান্ত নির্বাচন তার সার্থকতা অর্জন করে। যখন ২৩,০০০ ফটোগ্রাফারের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে আমাদের চারজন বিচারকের উদ্দেশ্য মিলে যায়, সেখান থেকে সবার মনে থাকবে এমন ছবিই বাছাই করা হয়।

ফটোগ্রাফিক ট্যালেন্ট বাছাই করার পাশাপাশি, উদীয়মান ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলারদের কাজে সহায়তা করাও এই কনটেস্টের লক্ষ্য। এই প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড উইনার ১,০০,০০০ টাকা, একটি অপো ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট থেকে একটি ফটোগ্রাফি কোর্স পেয়েছেন। এলিট উইনার পেয়েছেন ৫০,০০০ টাকা, একটি অপো স্মার্টফোন ও একটি পাঠশালা ফটোগ্রাফি কোর্স। পাশাপাশি, মাস্টার উইনার পেয়েছেন ৩০,০০০ টাকা, একটি অপো স্মার্টফোন ও একটি পাঠশালা ফটোগ্রাফি কোর্স। প্রত্যেক ক্যাটাগরির বিজয়ীরা পেয়েছেন ২০,০০০ টাকা, একটি অপো স্মার্টফোন ও একটি পাঠশালা ফটোগ্রাফি কোর্স।

পাঠশালার সাথে এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে কনটেস্টটি স্মার্টফোন প্রযুক্তি, প্রফেশনাল ফটোগ্রাফি দক্ষতা ও ক্রিয়েটিভ এক্সপ্রেশন একসাথে নিয়ে এসেছে, যা দেশজুড়ে উদীয়মান ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলারদের কাছে সর্বাধুনিক ফটোগ্রাফি টুলস আরও সহজলভ্য করতে অপোর প্রতিশ্রুতিকেই প্রতিফলিত করছে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তরুণ ইনফ্লুয়েন্সার জেজুনের

হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক-নার্স সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

সময়মতো ন্যায্যমূল্যে কৃষকের কাছে সার পৌঁছানোর নির্দেশ কৃষিমন্ত্রীর

৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকায় পদ্মা ব্যারাজ, বদলে যাবে ১৯ জেলার চিত্র?

বাইন্যান্সের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে ৬৩০ কোটি ডলার চুরি, নেপথ্যে কারা?

শুঁটকিতেও মিলল বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক: শীর্ষে লইট্টা ও চিংড়ি

যুদ্ধে বিপর্যস্ত কৃষ্ণসাগর: সাড়ে ৪ বছরে ১ লাখ ২০ হাজার ডলফিনের মৃত্যু

সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের জীবন বাঁচাতে তরুণদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও সিপিআর প্রশিক্ষণ

হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় দুই শিশুর মৃত্যু

কৃষকের কাছে সময়মতো ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছানোর তাগিদ কৃষিমন্ত্রীর

Tourism Fair Concludes with Tk 43 Crore in Business Over Three Days

তিন দিনে ৪৩ কোটি টাকার ব্যবসা, শেষ হলো পর্যটন মেলা