
দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় উৎপন্ন পুষ্টিসমৃদ্ধ উপজাত ‘হোয়ে ওয়াটার’ বা ছানার পানি ডেইরি শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে। এর মাধ্যমে নতুন দুগ্ধজাত পণ্য তৈরির পাশাপাশি খামারিদের আয় বৃদ্ধি, খাদ্য অপচয় ও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো এবং অপুষ্টি মোকাবিলায় ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে ১ কোটি ৫৫ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন দুধ উৎপাদিত হয়েছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরের তুলনায় এ উৎপাদন প্রায় তিন গুণ। তবে পনির ও দেশীয় মিষ্টান্নসহ বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্য প্রক্রিয়াজাতের সময় ‘হোয়ে’ নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজাতের বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়। অথচ পুষ্টিগুণের কারণে এই উপজাত দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহায়তায় ‘গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন’ (GAIN) আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়। ২৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর FARS হোটেলে ‘বাংলাদেশে হোয়ে ওয়াটার বিষয়ক গবেষণার ফলাফল প্রচার ও অবহিতকরণ কর্মশালা’ অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় GAIN-এর পরিচালিত গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে জানানো হয়, ‘হোয়ে ওয়াটার’ থেকে পুষ্টিসমৃদ্ধ পানীয়, প্রোবায়োটিক ও ফারমেন্টেড পণ্য, হোয়ে পাউডার, হোয়ে প্রোটিন, বেকারি সামগ্রী এবং পশুখাদ্যের উপাদান তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।
গবেষণায় ‘হোয়ে ওয়াটার’-এর বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয়ও চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হোয়ে ওয়াটার সংগ্রহ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা, কোল্ড চেইন লজিস্টিকস, উপযুক্ত প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তি, অর্থায়ন, খাদ্য নিরাপত্তা ও গুণমান নিশ্চিতকরণ এবং বাজার সংযোগ।
GAIN-এর পোর্টফোলিও লিড ড. আশেক মাহফুজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্যানেল আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা ‘হোয়ে’ খাতের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও বিনিয়োগ মডেল নিয়ে আলোচনা করেন।
আলোচনায় ডেনিশ দূতাবাসের সাকিব চৌধুরী বলেন, দুগ্ধ খাতে বিনিয়োগ বাড়লে বিপুলসংখ্যক কৃষক ও খামারিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। আড়ং ডেইরি (ব্র্যাক)-এর জিয়া উদ্দিন দুগ্ধজাত উপজাত পণ্য ও ‘হোয়ে’ পানীয় থেকে প্রান্তিক ডেইরি কৃষকরা কীভাবে উপকৃত হতে পারেন, তা তুলে ধরেন।
অধ্যাপক ড. রায়হান হাবিব ‘হোয়ে’ উৎপাদন ও এর সরবরাহ শৃঙ্খলসংক্রান্ত জ্ঞান ও প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ড. হোসেন মো. সেলিম ‘হোয়ে’ সংগ্রহ ও সংরক্ষণে ক্ষুদ্র দুগ্ধ খামারিদের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন প্রান্তিক দুগ্ধ খামারিদের অবস্থার উন্নয়নে নেওয়া নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়নে দুগ্ধ শিল্পের প্রতি সরকারের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
GAIN-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. রুদাবা খন্দকার গবেষণায় সহায়তার জন্য সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সব অংশীজন ও সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে কাজের মাধ্যমে GAIN বাংলাদেশের দুগ্ধ খাতে আরও অবদান রাখতে পারবে।