ঢাকাবুধবার , ৪ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

ইন্দোনেশিয়ায় দাবানলের ধোঁয়ায় বন্ধ কয়েক ডজন স্কুল

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪৭ সকাল

Link Copied!

এল নিনোর প্রভাবে দীর্ঘ ও তীব্র শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই ইন্দোনেশিয়ায় ছড়িয়ে পড়া দাবানলের ধোঁয়ায় কয়েক ডজন স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো পশ্চিম কালিমানতান প্রদেশের পন্টিয়ানাক শহরের স্কুলগুলোতে সরাসরি পাঠদান বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীদের বাড়ি থেকে ক্লাস করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোর্নিও দ্বীপের পশ্চিম কালিমানতানে মালয়েশিয়া ও ব্রুনাইয়ের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে। পন্টিয়ানাক শহরের ওপর দাবানলের ধোঁয়া ভেসে আসায় মেয়র এদি রুস্তি কামতোনো স্কুল বন্ধের নির্দেশ দেন।

সোমবার এক বিবৃতিতে মেয়র বলেন, বায়ুর মান স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকেই পাঠ নেবে। ধোঁয়ার প্রভাব বিশেষ করে রাত ও সকালে বেশি অনুভূত হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে ধোঁয়ার আস্তরণ পন্টিয়ানাক শহর ঢেকে ফেলেছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে জাভা দ্বীপের ব্রোমো তেঙ্গের সেমেরু জাতীয় উদ্যানে টানা নবম দিনের মতো আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন দমকলকর্মীরা। গত সোমবার শুরু হওয়া এ দাবানলে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ৯০০ হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে। আগুনের কারণে শনিবার থেকে দর্শনার্থীদের জন্য জাতীয় উদ্যানটি বন্ধ রাখা হয়েছে।

স্থানীয় দুর্যোগ কর্মকর্তা সাত্রিয়ো নুরসেনো জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আগুন নেভানোর পর পানি ছিটিয়ে এলাকাটি ঠান্ডা করা হবে, যাতে আগুন আবার ছড়িয়ে পড়তে না পারে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় ২০০ দমকলকর্মী, বনরক্ষী, পুলিশ ও সেনাসদস্য কাজ করছেন। তাদের সহায়তায় রয়েছে তিনটি পানি নিক্ষেপকারী হেলিকপ্টার ও ফায়ার ট্রাক।

ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ছয়টি প্রদেশে দাবানল মোকাবিলায় ৪৮ হাজারের বেশি কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী কৃত্রিম বৃষ্টির জন্য ৪৩টি হেলিকপ্টার ও সর্বোচ্চ ১৫টি নির্দিষ্ট ডানার বিমান মোতায়েন করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় বিমান থেকে সিলভার আয়োডাইড ও লবণের মতো কণা ছড়িয়ে বৃষ্টিপাত ঘটানোর চেষ্টা করা হয়। তবে এ জন্য আকাশে পর্যাপ্ত মেঘ থাকা প্রয়োজন।

আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে চলতি বছর ইন্দোনেশিয়ায় অস্বাভাবিকভাবে কঠিন শুষ্ক মৌসুম দেখা দিতে পারে। এতে খরা ও দাবানলের ঝুঁকি বাড়ছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ১ লাখ ৭ হাজার হেক্টরের বেশি জমি দাবানলে পুড়ে গেছে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

বিএমকেজির তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে ইন্দোনেশিয়ার গড় তাপমাত্রা ছিল ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্বাভাবিক গড় তাপমাত্রা ২৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১৯৯১ সালের পর জুলাই মাসে এটিই সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা।

এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা, যার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন ঘটে। ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এর প্রভাবে সাধারণত শুষ্ক আবহাওয়া তৈরি হয়। সর্বশেষ এল নিনোর প্রভাবে ২০২৩ ও ২০২৪ সাল বৈশ্বিকভাবে রেকর্ড করা সবচেয়ে উষ্ণ দুই বছর ছিল।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

স্তনবৃন্তে স্পর্শ করলেই কেন হঠাৎ মন খারাপ, কী এই ‘স্যাড নিপল সিনড্রোম’?

upay Rewards Three Distributor Partners with Umrah Packages under ‘Shopner Umrah 2026’ Campaign

উপায়ের ‘স্বপ্নের ওমরাহ’ ক্যাম্পেইনে পুরস্কার পেলেন ৩ ডিস্ট্রিবিউশন পার্টনার

সাতক্ষীরায় ৭৫ শতাংশ জলবায়ু বাস্তুচ্যুত পরিবার তীব্র খাদ্য সংকটে

মিরপুর বেড়িবাঁধে বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৪

হাসপাতাল নেই ৬০ গ্রামে, অসুস্থ হলে আট ঘণ্টার নদীপথ পাড়ি

চাঁদপুরে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারে ৬ যানবাহনকে জরিমানা

ঢাকায় শুষ্ক আবহাওয়া, কমতে পারে দিনের তাপমাত্রা

বাংলাদেশে জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু রক্ষায় ১২ সংস্থার সঙ্গে ইউএনডিপির চুক্তি

সড়ক দুর্ঘটনার আচরণগত ঝুঁকি নিরসনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে মতবিনিময় সভা

২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৬ মৃত্যু

ভিভো ভি৮০: নতুন রং ও নতুন ডিজাইনে আসছে নতুন চমক