
শরীরে আয়রনের ঘাটতি ধরা পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শে অনেকেই আয়রনের ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার পরও অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। এর অন্যতম কারণ হতে পারে ওষুধ খাওয়ার সময় ও পদ্ধতিতে কিছু সাধারণ ভুল। শুধু ওষুধ খেলেই হবে না, শরীরে আয়রন সঠিকভাবে শোষিত হচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত খালি পেটে আয়রনের ওষুধ খেলে শরীর তা ভালোভাবে শোষণ করতে পারে। তবে খালি পেটে ওষুধ খেলে কারও বমি ভাব, পেট ব্যথা বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হালকা খাবারের সঙ্গে ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। নিজের ইচ্ছায় ওষুধের নিয়ম পরিবর্তন বা বন্ধ করা উচিত নয়।
আয়রন শোষণে বাধা তৈরি করতে পারে চা, কফি, দুধ ও ক্যালশিয়াম। আয়রনের ওষুধ খাওয়ার কাছাকাছি সময়ে এসব খাবার বা পানীয় গ্রহণ করলে শরীরে আয়রন শোষণের পরিমাণ কমে যেতে পারে। একইভাবে ক্যালশিয়ামের ওষুধ এবং কিছু অম্বলের ওষুধও আয়রন শোষণে বাধা দিতে পারে। তাই এসব খাবার বা ওষুধের সঙ্গে আয়রন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সময়ের ব্যবধান রাখা জরুরি।
অন্যদিকে, ভিটামিন সি আয়রন শোষণে সহায়তা করে। আমলকি, পেয়ারা, কাঁচালঙ্কা, সজনেডাঁটা, লাল ক্যাপসিকাম, ব্রকোলি, কমলালেবু, পেঁপে ও পাতিলেবুর মতো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। তবে আলাদা করে ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন কি না, তা চিকিৎসকের পরামর্শেই ঠিক করা উচিত।
এ ছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মাঝপথে আয়রনের ওষুধ বন্ধ করা, নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি খাওয়া কিংবা নিয়মিত না খাওয়াও চিকিৎসায় বাধা তৈরি করতে পারে। অন্য ওষুধের সঙ্গে একই সময়ে আয়রন সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
তাই আয়রনের ঘাটতি বা রক্তস্বল্পতার চিকিৎসায় শুধু ওষুধ খাওয়াই যথেষ্ট নয়। কখন, কীভাবে এবং কোন খাবার বা ওষুধের সঙ্গে আয়রন গ্রহণ করছেন-সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক নিয়ম জানতে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা উচিত।