ঢাকামঙ্গলবার , ২৩ জুন ২০২৬
  1. সর্বশেষ

অতিরিক্ত মাছ ধরা ঠেকাতে কার্যকর হলো বৈশ্বিক সমুদ্র চুক্তি

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৩:৪১ বিকাল

Link Copied!

বিশ্বের মহাসাগর ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় একটি যুগান্তকারী বৈশ্বিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে এগোল জাতিসংঘ। অতিরিক্ত মাছ ধরা ও পরিবেশগত অবক্ষয়সহ নানা হুমকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রথমবারের মতো একটি পূর্ণাঙ্গ আইনগত কাঠামো কার্যকর হয়েছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে মহাসাগরের ৩০ শতাংশ এলাকা সুরক্ষার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এবং চুক্তির প্রস্তুতি কমিটির সহ-সভাপতি অ্যাডাম ম্যাকার্থি এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, এই চুক্তির আওতায় প্রথমবারের মতো মহাসাগরের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এবং পৃথিবীর মোট পৃষ্ঠের প্রায় অর্ধেক অংশ একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক আইনগত কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত হলো।

জাতিসংঘের এই চুক্তিটি বায়োডাইভারসিটি বিয়ন্ড ন্যাশনাল জুরিসডিকশন (বিবিএনজে) নামে পরিচিত। দীর্ঘ ১৫ বছর আলোচনা ও দরকষাকষির পর ২০২৩ সালের মার্চে চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা বিশাল ও এতদিন প্রায় অনিয়ন্ত্রিত সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে একটি বৈশ্বিক সুরক্ষা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পথ তৈরি হয়েছে। এর আওতায় গড়ে তোলা হবে মেরিন প্রোটেক্টেড এরিয়া বা সুরক্ষিত সামুদ্রিক অঞ্চল।

গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর ৬০টি দেশ চুক্তিটি অনুমোদন করায় ১২০ দিনের মধ্যে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার পথ সুগম হয়। এরপর থেকে অনুমোদনকারী দেশের সংখ্যা বেড়ে ৮০টিরও বেশি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চীন, ব্রাজিল ও জাপানের মতো গুরুত্বপূর্ণ দেশ। ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশ শিগগিরই চুক্তিটি অনুমোদন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেছে, তবে এখনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়নি।

চুক্তি অনুযায়ী, কোনো দেশ আন্তর্জাতিক জলসীমায় সামুদ্রিক কর্মকাণ্ড শুরু করার আগে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করতে বাধ্য থাকবে, যাতে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ওপর সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব আগেই নিরূপণ করা যায়। একই সঙ্গে ব্লু ইকোনমি থেকে অর্জিত সুবিধা-বিশেষ করে বায়োটেকনোলজির মতো খাতে ব্যবহৃত ‘মেরিন জেনেটিক রিসোর্স’—ন্যায্যভাবে দেশগুলোর মধ্যে ভাগাভাগির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

পরিবেশবাদীদের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে মহাসাগরের ৩০ শতাংশ এলাকা সুরক্ষার লক্ষ্যে পৌঁছাতে অন্তত ১ লাখ ৯০ হাজারের বেশি সুরক্ষিত সামুদ্রিক অঞ্চল ঘোষণা করতে হবে। বর্তমানে বিশ্বের মহাসাগরের মাত্র প্রায় ৮ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ বর্গকিলোমিটার এলাকা সুরক্ষার আওতায় রয়েছে।

তবে কিছু পরিবেশ সংরক্ষণবাদীর আশঙ্কা, সামুদ্রিক পরিবেশের অন্যতম বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত সমুদ্রতল থেকে খনিজ উত্তোলনের ক্ষেত্রে এই চুক্তির প্রভাব সীমিত হতে পারে। তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় এটি একটি ঐতিহাসিক অগ্রগতি।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

লোহাগাড়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে কলেজছাত্রী নিহত

২ হাজার ৪৬০ কেন্দ্রে চলবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন, লক্ষ্য ৩.৫৭ লাখ শিশু

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে ডিজিটাল নিবন্ধনের আওতায় ১০ লাখ প্রতিষ্ঠান

জয়পুরহাটে ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ ও আবহাওয়ার চরম পরিবর্তনের আশঙ্কা

এবার ক্ষতিকর নিকোটিন পাউচ ও ই-সিগারেট আমদানিতে সম্পূর্ণ কর প্রত্যাহারের আবদার বিএটির!

সন্ধ্যার মধ্যে ৭ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা

বিশ্বে দূষিত শহরের তালিকায় নবম ঢাকা

টেকনাফে পাহাড়ধসের শঙ্কা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছাড়তে প্রশাসনের আহ্বান

দেশের ১৫ জেলায় বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস

ঢাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস, বাড়তে পারে ভ্যাপসা গরম

হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৬৮৩