ঢাকামঙ্গলবার , ৩ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

৭৩ শতাংশ বিক্রয়কেন্দ্রে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন: টিসিআরসি গবেষণা

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৫:০১ বিকাল

Link Copied!

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে নিষিদ্ধ থাকলেও ৭৩ শতাংশ বিক্রয়কেন্দ্রে তামাকজাত দ্রব্যের কোনো না কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন রয়েছে। এছাড়া পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহণে ধূমপান নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও ৪৩ শতাংশ স্থানে সরাসরি ধূমপানের ঘটনা ঘটছে এবং ৩৮ শতাংশ অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি হচ্ছে। ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির টোব্যাকো কন্ট্রোল এন্ড রিসার্চ সেল (টিসিআরসি) এর এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ১১টায় রাজধানীর পল্টনে অবস্থিত ফার্স হোটেল “বাংলাদেশে তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থা” শীর্ষক গবেষণার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির টিসিআরসি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের (এনটিসিসি) মহাপরিচালক মোঃ আখতারউজ-জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তামাকমুক্ত রেলওয়ের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের কনসালটেন্ট ও এনটিসিসির সাবেক সমন্বয়কারী অব: অতিরিক্ত সচিব হোসেন আলী খোন্দকার, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মীর আলমগীর হোসেন, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি (দক্ষিণ) রখফার সুলতানা খানম, মাদক ও নেশা নিরোধ সংস্থা’র (মানস) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ অরূপরতন চৌধুরী, জনস্বাস্থ্য ও নীতি বিশ্লেষক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন ও বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের সমন্বয়কারী সাইফুদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) চেয়ারম্যান ও সাবেক সিনিয়র সচিব মোঃ হামিদুর রহমান খান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন টিসিআরসি’র প্রকল্প পরিচালক ও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক মোঃ বজলুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টিসিআরসি’র প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর ফারহানা জামান লিজা।

গবেষণায় ৮টি বিভাগীয় শহরের ৪৭৪টি স্থানের ৩৮৮টি পাবলিক প্লেস ও ৮৬টি পাবলিক পরিবহণকে নমুনা হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গত ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গবেষণার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

গবেষণার ফলাফলে তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রয়কেন্দ্রের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা, পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ সব ধরনের বিজ্ঞাপন ও ডিসপ্লে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা, অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে তামাক বিক্রির বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা এবং নিয়মিত মনিটরিং ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা জোরদারের সুপারিশ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দুর্বল নজরদারি ও সমন্বয়ের অভাব। পাবলিক প্লেস ও পরিবহণের মালিকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে না পারলে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এজন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তারা আরও বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো বিভিন্ন কৌশলে পরোক্ষ বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আইনকে ফাঁকি দিচ্ছে, যা বন্ধ করতে হলে আইনের ফাঁকফোকরগুলো দ্রুত সংশোধন ও কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তামাক বিক্রয়কেন্দ্রের লাইসেন্সিং ব্যবস্থা কার্যকর করা জরুরি। এর মাধ্যমে তামাক কোম্পানিগুলো চোরাচালানের যে মিথ প্রচার করে সেটাও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, সম্প্রতি পাস হওয়া ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, (সংশোধনী) ২০২৫’ দ্রুত আইনে পরিণত করে তার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণায়লয় ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, জনস্বাস্থ্য ও তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিকসহ তামাক বিরোধী সংগঠনের অর্ধশত প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তরুণ ইনফ্লুয়েন্সার জেজুনের

হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক-নার্স সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

সময়মতো ন্যায্যমূল্যে কৃষকের কাছে সার পৌঁছানোর নির্দেশ কৃষিমন্ত্রীর

৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকায় পদ্মা ব্যারাজ, বদলে যাবে ১৯ জেলার চিত্র?

বাইন্যান্সের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে ৬৩০ কোটি ডলার চুরি, নেপথ্যে কারা?

শুঁটকিতেও মিলল বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক: শীর্ষে লইট্টা ও চিংড়ি

যুদ্ধে বিপর্যস্ত কৃষ্ণসাগর: সাড়ে ৪ বছরে ১ লাখ ২০ হাজার ডলফিনের মৃত্যু

সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের জীবন বাঁচাতে তরুণদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও সিপিআর প্রশিক্ষণ

হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় দুই শিশুর মৃত্যু

কৃষকের কাছে সময়মতো ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছানোর তাগিদ কৃষিমন্ত্রীর

Tourism Fair Concludes with Tk 43 Crore in Business Over Three Days

তিন দিনে ৪৩ কোটি টাকার ব্যবসা, শেষ হলো পর্যটন মেলা