
দেশে বর্তমানে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই ঘটছে অসংক্রামক রোগে, যার অন্যতম প্রধান কারণ তামাকের ব্যবহার। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এবং সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্বস্বাস্থ্য অনুবিভাগ) শেখ মোমেনা মনি।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট ও বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা) আয়োজিত ‘৬ষ্ঠ জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ ওয়ার্কশপ’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তামাক নিয়ন্ত্রণে আইনি কঠোরতার ওপর গুরুত্ব
দীর্ঘ ৬ থেকে ৭ বছর পর আয়োজিত এই কর্মশালায় জানানো হয়, তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তরিত হয়েছে। নতুন আইনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এছাড়া তামাক কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন ধরনের হস্তক্ষেপ মোকাবিলায় স্থানীয় সরকার ও টাস্কফোর্স কমিটিগুলোকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
৩৪ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগ
অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ইতোমধ্যে ৩৪টি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি ‘যৌথ ঘোষণাপত্র’ স্বাক্ষর করেছে। এর ফলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পাঠ্যপুস্তকের সিলেবাসে তামাকের ক্ষতিকর দিক নিয়ে বিশেষ পাঠ অন্তর্ভুক্ত করেছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও তামাক নিয়ন্ত্রণকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তৃণমূল পর্যায়ে জবাবদিহিতা বাড়ানোর নির্দেশ
কর্মশালায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটিগুলোকে নিয়মিত সভা আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়। কোনো এলাকায় তামাকবিরোধী কার্যক্রম বা সভা নিয়মিত না হলে তা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে জানাতে বলা হয়েছে, যাতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
এ সময় তামাক চাষে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদারকি আরও জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।
নতুন চ্যালেঞ্জ ই-সিগারেট
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পথে বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ই-সিগারেট বা ভেপিং। তরুণদের মধ্যে এর ব্যবহার বাড়তে থাকায় এখনই কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়।
সচেতনতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে দেশের ৫৪টি জেলা থেকে সংগৃহীত তামাকবিরোধী রচনার ভিত্তিতে একটি বই প্রকাশের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।
দিনব্যাপী কর্মশালার সমাপনীতে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে ফিরে গিয়ে তামাকমুক্ত ও সুস্থ বাংলাদেশ গড়তে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়।