ঢাকারবিবার , ১৯ জুলাই ২০২৬
  1. সর্বশেষ

২০ কিমি বেড়িবাঁধে ১১ স্থানে ধস, আতঙ্কিত স্থানীয়রা

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
১৫ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৩৩ সকাল

Link Copied!

২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সুপার সাইক্লোন ‘সিডর’-এর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল বাগেরহাটসহ দেশের উপকূলীয় জনপদ। বিশেষ করে বাগেরহাটের শরণখোলা যেন পরিণত হয়েছিল এক মৃত্যুপুরীতে। সহস্রাধিক মানুষের প্রাণহানি, গৃহহীনতা, আর সর্বত্র লাশের স্তুপ-আজও ভুলতে পারেননি স্থানীয়রা। সেই রাতের জলোচ্ছ্বাসে মুহূর্তেই ভেসে গিয়েছিল ঘরবাড়ি, ফসল, গবাদিপশু আর আশ্রয়ের শেষ সম্বল।

সিডরের ওই ভয়াবহতার পর টেকসই সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারে ৬২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ শুরু হয়। ২০১৬ সালে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিএইচডব্লিউআই কাজ শুরু করলেও নানা জটিলতায় তিন বছরের প্রকল্প শেষ হতে সময় লাগে প্রায় সাত বছর। অবশেষে ২০২৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে বাঁধটি হস্তান্তর করা হয়।

কিন্তু হস্তান্তরের মাত্র দুই বছরের মাথায় শরণখোলার বগী থেকে মোরেলগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটারে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। অন্তত ১১টি স্থানে সিসি ব্লক ধসে পড়েছে, কোথাও মূল বাঁধ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, “উঁচু বাঁধ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু টেকসই হয়নি”-কারণ নদীশাসন ছাড়া বাঁধ নির্মাণ করায় এক বছরের মধ্যেই ভাঙন শুরু হয়।

গাবতলা গ্রামের মিজান হাওলাদার বলেন, “সিডরে স্বজন হারিয়েছি, ঘরবাড়ি হারিয়েছি। তখনই টেকসই বাঁধ চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন আবারও আতঙ্কে দিন কাটছে।”

স্থানীয়দের দাবি, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ত্রুটি ও দুর্বল পরিকল্পনা বাঁধকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। শরণখোলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, “নদী শাসন ছাড়া টেকসই বাঁধ হয় না। মাটির বদলে নদীর বালু ব্যবহার করা হয়েছে। দুর্নীতি হয়েছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে দুই–তিন বছরের মধ্যেই বাঁধ বিলীন হয়ে যাবে।” তিনি এ বিষয়ে জরুরি তদন্ত ও নদীশাসনের দাবি জানান।

অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি কাজ চলছে। নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান,
“অতি ঝুঁকিপূর্ণ এক হাজার মিটার এলাকায় ভাঙনরোধের কাজ শুরু হয়েছে। বগী এলাকায় প্রায় ৭০০ মিটারে জিও ব্যাগ ও সিসি ব্লক ফেলা হচ্ছে। ফাশিয়াতলা এলাকাতেও ডাম্পিং করা হবে।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব কাজ শেষ হলে শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জ আংশিক হলেও জলোচ্ছ্বাস থেকে সুরক্ষা পাবে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন-সিডরের ১৭ বছর পরও কেন তারা আবারও একই আতঙ্কে?

উপকূলীয় মানুষের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন টেকসই বাঁধ ও কার্যকর নদীশাসন, নইলে পরবর্তী দুর্যোগে আবারও বিপর্যয়ে পড়বে পুরো অঞ্চল।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করবে স্টেট ইউনিভার্সিটি ও ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট

কার্বন শোষণে পরিবেশবান্ধব নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন

দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

উপকূল রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নরসিংদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় টমটম চালক নিহত

ভবিষ্যতে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলবে চীনের বুলেট ট্রেন

বিশ্ববাজারে বেড়েছে আর্জেন্টিনার গরুর মাংসের চাহিদা

দেশজুড়ে আরও পাঁচ দিন বৃষ্টির আভাস, কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের শঙ্কা

শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হবে সৌদি আরব

সন্ধ্যার মধ্যে ৮ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত

সীতাকুণ্ডে ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু

Jamal Bhuyan Joined OPPO as Shop Manager!