দেশে দিনদিন মাদকসেবী ও ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে। চলতি সময়ে দেশের মোট মাদক ব্যবহারকারীর আনুমানিক সংখ্যা প্রায় ৮২ লাখ। এর মধ্যে বড় একটি অংশ তরুণ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অর্থায়নে পরিচালিত এক সাম্প্রতিক গবেষণায় এ ভয়ানক তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় দেশের ৮ বিভাগ, ১৩ জেলা ও ২৬ উপজেলার ৫ হাজার ২৮০ জনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে গুণগত ও পরিমাণগত উভয় পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর শাহবাগে একটি সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে অনুষ্ঠিত কনফারেন্সে ‘বাংলাদেশে মাদক অপব্যবহারকারী ব্যক্তিদের সংখ্যা, ধরণ ও সংশ্লিষ্ট কারণসমূহ’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
গবেষণায় উঠে এসেছে, মাদক গ্রহণকারীর একটি বড় অংশ ১৮ বছরের আগেই মাদক সেবন শুরু করে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ডিন ও গবেষণার প্রধান অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী জানান, দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মাদক হলো গাঁজা। এরপরের অবস্থানে রয়েছে ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল ও কোডেইনজাত কাশির সিরাপ। বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে চলেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, কিশোর বয়স থেকেই মাদক গ্রহণ শুরু হচ্ছে। ৬০ শতাংশের বেশি ব্যবহারকারী ১৮ বছরের আগেই প্রথমবার মাদক গ্রহণ করে। মাদক গ্রহণের মূল কারণ হিসেবে Freundদের প্রভাব, কৌতূহল, পারিবারিক অশান্তি এবং মানসিক চাপকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
শহরাঞ্চলে মাদক ব্যবহার বেশি হলেও গ্রামাঞ্চলেও এর বিস্তার দ্রুত বাড়ছে। বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে ঢাকা বিভাগে এবং সর্বনিম্ন বরিশালে। সীমান্তবর্তী জেলা ও বড় শহরের আশপাশের এলাকাগুলোতে মাদক ব্যবহার ও সরবরাহের ঝুঁকি বেশি।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, মাদকাসক্তদের বড় অংশ কখনো চিকিৎসা বা পুনর্বাসন সেবা গ্রহণ করে না। যারা সেবা নেয়, তাদেরও অনেকেই প্রয়োজনীয় ও ধারাবাহিক সেবা পান না। ফলে পুনরায় মাদক গ্রহণের ঝুঁকি থাকে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, মাদক সমস্যা শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। তারা প্রতিরোধের পাশাপাশি চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও সামাজিক পুনঃঅন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া কিশোর ও তরুণদের লক্ষ্য করে সচেতনতামূলক কর্মসূচি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ।


