
রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিন উৎপাদিত প্রায় তিন হাজার টন বর্জ্য কাজে লাগিয়ে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চীনা প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্প থেকে ২০২৮ সালের আগস্টে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আমিনবাজার এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাতুয়াইল এলাকায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দুটি প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, চীনের সিএমইসি গ্রুপ আমিনবাজারে একটি বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করবে। এ কেন্দ্রে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৮ সালের আগস্টে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু হবে এবং প্রকল্পটি টানা ২৫ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে।
তিনি বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত হবে, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব উপায়ে বর্জ্য কাজে লাগিয়ে জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন উৎস যুক্ত হবে।
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা আরও জানান, আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করা এবং নিমগাছের চারা রোপণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ‘ক্লিন কেয়ার’ নামে একটি ডিজিটাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করেছে। নতুন এই অ্যাপের মাধ্যমে নগরবাসী পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত অভিযোগ সরাসরি জানাতে পারবেন। এতে অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং নগর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
সরকার জানিয়েছে, বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর, পরিবেশ দূষণ কমানো এবং বিকল্প জ্বালানির উৎস তৈরির লক্ষ্যে এ ধরনের প্রকল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।