দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত। টেকটোনিক প্লেটের সক্রিয় চলাচলের কারণে এই অঞ্চলে প্রায়ই হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) গভীর রাতে ঢাকাসহ দেশের চারটি বিভাগে ৪ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প কেঁপে ওঠে। হঠাৎ কম্পনে অনেকেই ঘুম ভেঙে আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক এই ভূমিকম্প আবারও স্মরণ করিয়ে দিল-অঞ্চলটি ভৌগোলিকভাবে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এবং প্রয়োজন আগাম প্রস্তুতি ও সচেতনতা বৃদ্ধি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের ফালামে। এর গভীরতা ছিল ১০৬ দশমিক ৮ কিলোমিটার। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইএমএসসি-ও জানিয়েছে, একই মাত্রার ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের নাচুয়াংয়ে।
বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, বরিশাল, ঢাকা ও সিলেট বিভাগ থেকেও ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে কোথাও বড় ধরনের আতঙ্ক বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।
ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে মিয়ানমার দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভারত ও ইউরেশিয়া টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে নিয়মিত ভূমিকম্প ঘটে থাকে। সাইগং ফল্ট নামে পরিচিত দুই প্লেটের সীমানা মিয়ানমারের মান্দালয় থেকে ইয়াঙ্গুন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত। এই ফল্টলাইনের আশপাশে লাখো মানুষ ভূমিকম্প-ঝুঁকিতে বসবাস করে।
চলতি বছরের ২৮ মার্চ দেশটিতে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল, যার প্রভাব পড়েছিল থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, ভারত, কম্বোডিয়া ও চীন পর্যন্ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত দুই দশকে মিয়ানমারে এত বড় মাত্রার ভূমিকম্পের ঘটনা আর ঘটেনি।
নতুন করে ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্প আবারও স্মরণ করিয়ে দিল, অঞ্চলটি ভূগর্ভস্থ প্লেটের চলাচলের কারণে সবসময়ই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।


