ঢাকাসোমবার , ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

বাংলাদেশে মেট্রো বনাম মনোরেল: কোনটি বেশি নির্ভরযোগ্য?

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ২৬, ২০২৬ ১:৪২ অপরাহ্ণ । ১৫৮ জন

আধুনিক নগরায়নে যানজটমুক্ত ও নিরাপদ যাতায়াতের জন্য মেগাসিটিগুলোতে মেট্রো এবং মনোরেল-উভয়ই জনপ্রিয় গণপরিবহন মাধ্যম। বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে মেট্রোরেল, আর মনোরেল চালুর উদ্যোগও শুরু হয়েছে। বাইরে থেকে দেখতে অনেকটা একই রকম মনে হলেও প্রযুক্তি, সক্ষমতা এবং কার্যকারিতার দিক থেকে এই দুইয়ের মধ্যে রয়েছে বিস্তর পার্থক্য।

ট্র্যাক বা রেললাইনের গঠন

মনোরেল: একক বিম বা পিলারের ওপর ভর করে চলে। সাধারণত ৫০-৬০ সেমি চওড়া কংক্রিট লাইনের ওপর রাবার টায়ারের সাহায্যে চলাচল করে।

মেট্রোরেল: দুইটি সমান্তরাল স্টিল ট্র্যাকের ওপর চলে, যা সাধারণ ট্রেনের তুলনায় অনেক আধুনিক ও দ্রুতগতির।

যাত্রী ধারণক্ষমতা

মনোরেল: ছোট এবং কম যাত্রী বহন করে। চারটি বগির একটি মনোরেলে সর্বোচ্চ ১০০০ জন যাত্রী যাতায়াত করতে পারে।

মেট্রোরেল: বৃহত্তর জনসংখ্যা সামাল দিতে সক্ষম। আটটি বগির একটি মেট্রোরেলে ২৫০০-৩০০০ যাত্রী যাতায়াত করতে পারে।

বিদ্যুৎ সরবরাহ ও নির্ভরযোগ্যতা

মনোরেল: পিলারের পাশে থাকা মেটাল বার বা ‘বাস-বার’ থেকে বিদ্যুৎ নেয়। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হলে পুরো লাইন স্থবির হয়ে যায়।

মেট্রোরেল: ওভারহেড ক্যাবল বা থার্ড রেইল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়। ব্যাকআপ সিস্টেম থাকায় লাইনের এক অংশে ত্রুটি থাকলেও অন্য অংশ সচল রাখা সম্ভব।

রক্ষণাবেক্ষণ ও খরচ

মনোরেল: রাবারের টায়ারে চলায় দ্রুত ক্ষয় হয়। রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত ব্যয়সাপেক্ষ।

মেট্রোরেল: স্টিল ট্র্যাকে চলায় রক্ষণাবেক্ষণ সহজ ও দীর্ঘস্থায়ী। খরচ তুলনামূলক কম।

জরুরি অবস্থায় উদ্ধার ব্যবস্থা

মনোরেল: মাঝপথে বিকল হলে সেটিকে সরানো কঠিন, ফলে পুরো নেটওয়ার্কে জ্যামের ঝুঁকি থাকে।

মেট্রোরেল: সাইড ট্র্যাক ও টার্নআউট থাকার কারণে কোনো ট্রেন নষ্ট হলেও দ্রুত উদ্ধার ও লাইনের সচলতা বজায় রাখা সম্ভব।

মেগাসিটিতে মেট্রোরেল হলো মূল লাইফলাইন-নির্ভরযোগ্য, শক্তিশালী ও বৃহৎ জনসংখ্যার জন্য উপযুক্ত। অন্যদিকে মনোরেল হলো শহরের সরু রাস্তা বা সীমিত এলাকায় ছোট দূরত্বের যাতায়াতের জন্য বিশেষায়িত গণপরিবহন।

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট