প্রকৃতিতে বেশিরভাগ পাখি তাদের বাচ্চাদের যত্নসহ লালন-পালন করে, তবে কিছু প্রজাতি আরও অপ্রচলিত কৌশল অবলম্বন করে। “ব্রুড পরজীবী” বা Brod Parasitism নামে পরিচিত এই আচরণে পাখিরা অন্য প্রজাতির বাসায় ডিম পাড়ে এবং পোষককে তাদের সন্তান লালন-পালনের জন্য ব্যবহার করে। এই পদ্ধতিতে কিছু পাখি সূক্ষ্ম প্রতারণা থেকে শুরু করে আক্রমণাত্মক কৌশল পর্যন্ত ব্যবহার করে তাদের বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা নিশ্চিত করে।
১. নীল পাখি (ইন্ডিগোবার্ড)

নীল পাখি আফ্রিকার আদি নিবাসে বসবাস করে এবং ভিডুইডি পরিবারের অন্তর্গত। এরা ফায়ার ফিঞ্চের মতো পোষক পাখির বাসায় ডিম পাড়ে। নীল পাখির ডিম আকার ও রঙে পোষকের ডিমের মতো হয়, ফলে পোষক নিজের ডিম ও নীল পাখির ডিম আলাদা করতে পারে না। ডিম ফোটার পর, নীল পাখির ছানা পোষকের কণ্ঠস্বর অনুকরণ করে, যা নিশ্চিত করে তারা পোষক দ্বারা গ্রহণযোগ্য থাকে।
২. সাধারণ কোকিল

সাধারণ কোকিল (Cuculus canorus) ব্রুড পরজীবীদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত। এরা ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ১০০-এর বেশি পোষক প্রজাতির বাসায় ডিম পাড়ে। কোকিলের ছানা প্রায়শই পোষকের ডিম বা বাচ্চাদের বাসা থেকে বের করে দেয়, যাতে পোষকের সরবরাহ করা খাবার একচেটিয়াভাবে তাদের জন্য থাকে। এক প্রজনন ঋতুতে কোকিল একাধিক বাসায় ডিম পাড়ে, যা বংশের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।
৩. হানিগাইড

হানিগাইড আফ্রিকা, এশিয়া ও হিমালয়ের কিছু অঞ্চলে পাওয়া যায়। এরা মধু খোঁজার জন্য মানুষের সঙ্গে পরিচিত হলেও অনেক প্রজাতিই ব্রুড পরজীবী। ডিম ফুটার পর, হানিগাইড ছানা প্রায়শই পোষকের বাচ্চাদের মারতে পারে বা তাদের ডিম ধ্বংস করে। এটি নিশ্চিত করে যে হানিগাইড ছানা পোষক পাখির সরবরাহিত খাবার একচেটিয়াভাবে পায়।
৪. বাদামী-মাথাযুক্ত কাউবার্ড

বাদামী-মাথাযুক্ত কাউবার্ড (Molothrus ater) উত্তর আমেরিকার কুখ্যাত ব্রুড পরজীবী। এরা ২২০-এর বেশি প্রজাতির বাসায় ডিম পাড়ে। কাউবার্ডের ছানা দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং খাবারে পোষকের বাচ্চাদের প্রতিযোগিতা করে। কিছু ক্ষেত্রে পোষক পাখি কাউবার্ডের ডিম প্রত্যাখ্যান করতে পারে, তবে তা সত্ত্বেও কাউবার্ড ছানার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
৫. কালো মাথাওয়ালা হাঁস

দক্ষিণ আমেরিকার স্থানীয় কালো মাথাওয়ালা হাঁস তুলনামূলকভাবে শান্ত প্রকৃতির ব্রুড পরজীবী। এরা সাধারণত পোষকের বাচ্চাদের ক্ষতি করে না। ডিম ফোটার পর ছানাগুলো স্বাভাবিকভাবে নিজেদের রক্ষা করতে সক্ষম হয় এবং কিছুক্ষণ পর বাসা ছেড়ে চলে যায়। এই অ-আক্রমণাত্মক কৌশল তাদের অন্যান্য ব্রুড পরজীবীর তুলনায় আলাদা করে।
ব্রুড পরজীবী পাখিরা কৌশলের মাধ্যমে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা অর্জন করে এবং তাদের প্রজাতির বংশবিস্তার নিশ্চিত করে। যদিও এই আচরণ কখনও কখনও নিষ্ঠুর মনে হতে পারে, প্রকৃতিতে এটি প্রজননের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। তারা অন্যান্য পাখির বাসায় ডিম পাড়ে এবং পোষক পাখিদের উপর নির্ভর করে তাদের ছানাদের লালন-পালন করায়, যা প্রজাতির বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত কার্যকরী।


