ঢাকাসোমবার , ৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

দুই দিনের স্বস্তির পর ঠাকুরগাঁওয়ে শীতের দাপট বাড়ল

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ৫, ২০২৬ ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ । ১৮২ জন

দুই দিনের সাময়িক উষ্ণতার পর হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত ঠাকুরগাঁও জেলায় আবারও জেঁকে বসেছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। গত দুই দিন ধরে হিমেল বাতাস, ঘন কুয়াশা এবং গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মতো অনুভূত কুয়াশার কারণে স্বাভাবিক জনজীবন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

চলতি মৌসুমের তৃতীয় দফার এই শৈত্যপ্রবাহে সূর্যের দেখা মিলছে না বললেই চলে। দুপুরে মাত্র এক থেকে দুই ঘণ্টার জন্য সূর্যের মুখ দেখা গেলেও বাকি সময় আকাশ ঢেকে থাকছে ঘন কুয়াশায়। অনেক সময় কুয়াশা এতটাই ঘন হচ্ছে যে তা গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মতো অনুভূত হচ্ছে। ফলে সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও।

প্রচণ্ড ঠান্ডা ও হিমেল বাতাসে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও ছিন্নমূল মানুষ। কাজে বের হতে না পেরে অনেকেই আয়-রোজগার হারাচ্ছেন। খোলা আকাশের নিচে বসবাসকারী মানুষের কষ্ট চরমে পৌঁছেছে।

তীব্র শীতের প্রভাবে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের মধ্যে সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া এবং ডায়রিয়াজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীরা প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসছেন। চিকিৎসকরা শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি শীতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। শীতবস্ত্রের অভাবে অনেক মানুষ বাধ্য হয়ে কনকনে ঠান্ডায় দিন কাটাচ্ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. মাজেদুল ইসলাম জানান, সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিরূপ আবহাওয়ার প্রেক্ষিতে কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বোরো ধান ও শীতকালীন ফসল রক্ষায় বাড়তি সতর্কতা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।