
তিস্তা নদীর পানি ওঠানামার মধ্যে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। তীব্র স্রোতে নবনির্মিত প্রায় ২০০ মিটার তীর সংরক্ষণ বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে লোকালয়ে পানি ঢুকে প্রায় এক হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। নতুন করে ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে তিন গ্রামের প্রায় দেড় হাজার পরিবারের।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দিন ধরে তিস্তার পানি দ্রুত বাড়া-কমার কারণে নদীতীরজুড়ে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। সোমবার রাতে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করে। এতে কয়েকটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আমন ধানের বীজতলাও তলিয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গঙ্গাচড়া উপজেলার তালপট্টি-নরশিং এলাকায় নির্মিত প্রায় দুই কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে বসতভিটা, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ভাঙন শুরুর পরপরই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হতো। তারা নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন ধরেই ওই এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৬ হাজার জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আরও জিও ব্যাগ ফেলা এবং অতিরিক্ত প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।