ঢাকামঙ্গলবার , ৩ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে জেলা পর্যায়ের নেতৃত্ব জরুরি: রাজেশ নারওয়াল

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ২:৩৮ বিকাল

Link Copied!

বাংলাদেশে তামাকজনিত মৃত্যু ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে সম্প্রতি গৃহীত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) প্রতিনিধি ড. নারওয়াল। তিনি বলেন, আইন প্রণয়নের পাশাপাশি এর কার্যকর বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিশ্রুতি জেলা পর্যায়ে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ-২০২৫ এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিয়ে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের (এনটিসি) আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. নারওয়াল বাংলাদেশ সরকার এবং জনগণকে একটি গুরুত্বপূর্ণ তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ পাস করার জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, “তামাকের কারণে বিশ্বে প্রতি বছর ৮০ লাখ মানুষ মারা যায়, যা প্রতি ৪ সেকেন্ডে এক মৃত্যু। বাংলাদেশে প্রতি বছর ১ লাখ ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ তামাকজনিত কারণে মারা যায়, যা প্রতি ৩-৪ মিনিটে একটি মৃত্যুর সমান।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইন পাস হওয়া এক প্রাপ্তি হলেও মূল কাজ হলো তা বাস্তবে কার্যকর করা। তিনি বলেছেন, “জাতীয় পর্যায়ের প্রতিশ্রুতি জেলা পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে এবং জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে তা কার্যকর করতে হবে।”

ড. নারওয়াল ইন্ডাস্ট্রির প্রভাব মোকাবিলারও গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “তামাক কোম্পানিগুলো তাদের প্রচারণায় প্রতি ঘণ্টায় ১ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১২ কোটি টাকা) খরচ করছে। তারা সোশ্যাল মিডিয়া ও ইনফ্লুয়েন্সার ব্যবহার করছে। এর বিপরীতে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।”

তিনি ধোঁয়াবিহীন তামাক নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেছেন। “বাংলাদেশে ধোঁয়াবিহীন তামাক, যেমন জর্দা ও গুল, জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ব্যবহার করে। এটিও নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।”

ড. নারওয়াল পরামর্শ দেন, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য নির্দিষ্ট ‘ওয়ার্ক প্ল্যান’ ও সময়সীমা থাকা উচিত। তিনি বলেন, “পরিস্থিতির উন্নতির জন্য নতুন ডেটা বা সার্ভে যেমন GATS এবং GYTS নেওয়া প্রয়োজন।”

সভায় তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO)-এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারকে কারিগরি এবং অন্যান্য সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপদেষ্টা জনাব নূরজাহান বেগম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, বিশেষ সহকারী। সভায় সভাপতিত্ব করেন সচিব মো. সাইদুর রহমান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তরুণ ইনফ্লুয়েন্সার জেজুনের

হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক-নার্স সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

সময়মতো ন্যায্যমূল্যে কৃষকের কাছে সার পৌঁছানোর নির্দেশ কৃষিমন্ত্রীর

৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকায় পদ্মা ব্যারাজ, বদলে যাবে ১৯ জেলার চিত্র?

বাইন্যান্সের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে ৬৩০ কোটি ডলার চুরি, নেপথ্যে কারা?

শুঁটকিতেও মিলল বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক: শীর্ষে লইট্টা ও চিংড়ি

যুদ্ধে বিপর্যস্ত কৃষ্ণসাগর: সাড়ে ৪ বছরে ১ লাখ ২০ হাজার ডলফিনের মৃত্যু

সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের জীবন বাঁচাতে তরুণদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও সিপিআর প্রশিক্ষণ

হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় দুই শিশুর মৃত্যু

কৃষকের কাছে সময়মতো ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছানোর তাগিদ কৃষিমন্ত্রীর

Tourism Fair Concludes with Tk 43 Crore in Business Over Three Days

তিন দিনে ৪৩ কোটি টাকার ব্যবসা, শেষ হলো পর্যটন মেলা