ঢাকামঙ্গলবার , ৬ অক্টোবর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. লাইফস্টাইল

জেনে নিন হজমশক্তি উন্নত করার ১২টি কার্যকর উপায়

প্রতিবেদক
হাসান মাহমুদ
২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৫ সকাল

Link Copied!

মানবদেহের সামগ্রিক সুস্থতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকাংশে নির্ভর করে তার পরিপাকতন্ত্র ও অন্ত্রের (গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সিস্টেম) ওপর। স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রকাশনা হেলথলাইনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রত্যেকেই জীবনে কোনো না কোনো সময় পেটে অস্বস্তি, গ্যাস, বুকজ্বালা, বমি ভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়ার মতো হজমজনিত সমস্যায় ভুগে থাকেন। তবে এই লক্ষণগুলো যখন প্রায়ই দেখা দেয়, তখন তা মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটায়। প্রাকৃতিকভাবে হজমশক্তি ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করার ১২টি কার্যকর উপায় নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

সম্পূর্ণ বা প্রক্রিয়াজাতকরণ ছাড়া খাবার খাওয়া :
খাবার আপনার অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের গঠনকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে, যা পরিপাক, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত জরুরি। প্রক্রিয়াজাত খাবারে থাকা অতিরিক্ত চিনি বা কৃত্রিম উপাদান অন্ত্রে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, তাই প্রাকৃতিকভাবে সম্পূর্ণ ও ন্যূনতম প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া উচিত যা মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্য বজায় রাখে।

পর্যাপ্ত ফাইবার বা আঁশ গ্রহণ :
ডায়েটে ফাইবার যুক্ত করলে তা নিয়মিত মলত্যাগ নিশ্চিত করে এবং অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে। অদ্রবণীয় ফাইবার খাবারকে দ্রুত হজম সিস্টেমে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে এবং দ্রবণীয় ফাইবার শর্ট-চেইন ফ্যাটি এসিড তৈরিতে সহায়তা করে, তবে পেটে ক্র্যাম্প বা গ্যাস এড়াতে ফাইবার গ্রহণের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়াতে হবে।

স্বাস্থ্যকর চর্বি (গুড ফ্যাট) যোগ করা :
অ্যাভোকাডো, বাদাম এবং স্যামসাংয়ের মতো খাবারে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি পিত্তরস তৈরিতে সাহায্য করে, যা পরিপাক ক্রিয়াকে সহজ করে। এছাড়া এসব চর্বি ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে শোষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা অন্ত্রের দেওয়াল ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে।

পর্যাপ্ত পানি ও তরল পান করা :
শরীরের সঠিক কার্যকারিতা এবং এনজাইম সক্রিয় করার জন্য পানির বিকল্প নেই. অপর্যাপ্ত পানি পানের ফলে ডিহাইড্রেশন দেখা দিলে কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস এবং পেট ফাঁপার মতো সমস্যা হতে পারে, তাই সাধারণ পানি বা ভেষজ চা পান করে হাইড্রেটেড থাকা জরুরি।

মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা :
মস্তিষ্ক এবং অন্ত্র একটি দ্বিমুখী যোগাযোগ নেটওয়ার্ক বা গাট-ব্রেইন এক্সিসের মাধ্যমে যুক্ত থাকে। অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে পরিপাক প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যেতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে তা পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়ার মতো লক্ষণ তৈরি করতে পারে।

সচেতনভাবে খাবার খাওয়া :
মনোযোগ দিয়ে ও ধীরে ধীরে খাবার খাওয়ার অভ্যাস স্ট্রেস কমাতে এবং পরিপাক প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি লালারসের সঙ্গে খাদ্যের কণাগুলোকে সুন্দরভাবে মিশতে সাহায্য করে, যা পাকস্থলীর হজম প্রক্রিয়াকে অনেক সহজ করে তোলে।

ভালোভাবে খাবার চিবানো :
খাবার সঠিকভাবে চিবানো হলো পরিপাক প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ। ছোট ছোট কামড়ে খাবার ভালো করে চিবিয়ে খেলে এনজাইমগুলো সহজে পুষ্টি উপাদানগুলো ভাঙতে পারে এবং গ্যাস জমার আশঙ্কা কমে যায়।

নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম :
শারীরিক ব্যায়াম পরিপাকতন্ত্রে রক্তপ্রবাহ বাড়ায় এবং খাদ্যকে অন্ত্রের মধ্য দিয়ে দ্রুত চলাচল করতে সহায়তা করে। এটি সামগ্রিক অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন পরিপাকজনিত রোগ নিরাময়ে থেরাপিউটিক সহায়তা হিসেবে কাজ করে।

শরীরের সংকেত শোনা ও সচেতন হওয়া :
পরিপাকজনিত কোনো সমস্যা দেখা দিলে তার মূল কারণ দ্রুত চিহ্নিত করা উচিত। সব লক্ষণ কেবল খাদ্যাভ্যাসের কারণে হয় না, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে অন্তর্নিহিত কোনো শারীরিক জটিলতা থাকলে তা সহজে ধরা পড়ে।

ক্ষতিকর জীবনযাত্রার অভ্যাস পরিবর্তন :
ধূমপান অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের ক্ষতি করতে পারে এবং পরিপাক প্রক্রিয়া ধীর করে দেয়। অন্যদিকে অ্যালকোহল পাকস্থলীর আস্তরণে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং গভীর রাতে খাওয়ার অভ্যাস শরীরের বিপাক গতি ধীর করে দেয়, যা হজমের জন্য ক্ষতিকর।

অন্ত্র-সহায়ক পুষ্টি উপাদান গ্রহণ :
গ্লুটামিন নামক অ্যামিনো এসিড এবং জিঙ্ক খনিজ উপাদান অন্ত্রের দেওয়ালের কার্যকারিতা বজায় রাখতে, কোষের পুনরুৎপাদন বাড়াতে এবং প্রদাহ কমাতে বিশেষভাবে সাহায্য করে।

প্রোবায়োটিকস বা উপকারী মাইক্রোবায়োম গ্রহণ :
পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোবায়োটিকস গ্রহণ করলে অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় থাকে। এটি অতিরিক্ত গ্যাস জমা হওয়া রোধ করে, পেট ফাঁপা কমায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে মলের নিয়মিত প্রবাহ নিশ্চিত করে।

খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার সামান্য কিছু পরিবর্তন—যেমন প্রক্রিয়াজাত খাবার বর্জন, আঁশযুক্ত খাবার ও পানি খাওয়া এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা—আপনার দীর্ঘমেয়াদী অন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং সামগ্রিক পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

উপকূলের ১৪ জেলায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬: কতটা নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঢাকা?

পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস যৌথভাবে কাজ করবে

কোম্পানির হস্তক্ষেপ তামাক নিয়ন্ত্রণের বড় বাঁধা

realme C100 Set to Bring All-round Durable Champion 8000mAh Titan Battery

অলরাউন্ড ডিউরেবল চ্যাম্পিয়ন ৮,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার টাইটান ব্যাটারি নিয়ে আসছে রিয়েলমি সি১০০

মানিকগঞ্জে বাসচাপায় তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি নিহত

আজ বিশ্ব বসতি দিবস

বৃষ্টির পর তেঁতুলিয়ায় শীতের আমেজ, তাপমাত্রা নামল ২০ ডিগ্রিতে

হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৩ মৃত্যু

ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ২ হাজার ৮৯

সরকারি হাসপাতাল তদারকিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ৫৪ কর্মকর্তা