শহরের বস্তিতে বসবাসকারী নারীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবার গ্রহণযোগ্য মডেল উপস্থাপন করল আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)। সংস্থাটির নিউট্রি-ক্যাপ গবেষণা কর্মসূচিতে দেখা গেছে, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে পরিচালিত এবং একীভূত স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবাভিত্তিক কাঠামো প্রসূতি, কিশোরী ও দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের স্বাস্থ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সোমবার (৭ জুলাই) মহাখালীর সাসাকাওয়া অডিটোরিয়ামে আয়োজিত বৈজ্ঞানিক সেমিনারে এই গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। ঢাকার মিরপুরের বাউনিয়াবাদ বস্তিতে এই গবেষণা পরিচালিত হয় ‘অ্যাডভান্সিং সেক্সুয়াল অ্যান্ড রিপ্রডাক্টিভ হেলথ অ্যান্ড রাইটস’ (অ্যাডসার্চ) প্রকল্পের আওতায়।
নাগরিক দারিদ্র্যের প্রতিচ্ছবি বাউনিয়াবাদ
গবেষণায় দেখা যায়, বাউনিয়াবাদের অধিকাংশ পরিবার চরম দারিদ্র্য, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে বাস করছে। এখানে প্রতি চারটি পরিবারে একটি পরিবার খাদ্য সংকটে এবং প্রায় ৯১ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে ঋণগ্রস্ত। অর্ধেকের বেশি শিশু খর্বাকৃতির এবং বহু নারী প্রয়োজনীয় গর্ভকালীন সেবা পান না।
নিউট্রি-ক্যাপ কর্মসূচির কার্যকর দৃষ্টান্ত
গর্ভবতী নারী, কিশোরী ও দুই বছরের নিচের শিশুদের লক্ষ্য করে পরিচালিত নিউট্রি-ক্যাপ কর্মসূচিতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি পুষ্টিসেবা নিশ্চিত করা হয়। এতে দেখা গেছে:
গর্ভবতী নারীদের ওজন বৃদ্ধি, হাসপাতালেই অধিকাংশ প্রসব, এবং নবজাতকের মৃত্যু ও কম ওজনে জন্ম কমেছে।
কিশোরীদের হিমোগ্লোবিনের গড় পরিমাণ বেড়েছে ১২.০ থেকে ১২.৮ গ্রাম/ডেসিলিটার।
শিশুদের উচ্চতা, ওজন ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত হয়েছে; রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেড়েছে।
চিকিৎসা ব্যয়ে স্বস্তি এসেছে; ওষুধ ও পরীক্ষার খরচ কমেছে।
স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোর একটি মডেল
গবেষক দল বলছে, এই সফলতা এসেছে কারণ স্থানীয় জনগণ সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে। স্থানীয় নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যার ফলে মানুষ সহমর্মিতার সঙ্গে সেবা গ্রহণ করেছে। এই মডেল সাশ্রয়ী এবং প্রসারণযোগ্য—চাইলে দেশের অন্যান্য বস্তি ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও এটি কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যাবে।
আইসিডিডিআর,বি’র নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন, “বস্তিবাসীরা অনেক আগে থেকেই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় উপেক্ষিত। নিউট্রি-ক্যাপ-এর মতো অভিযোজিত মডেলগুলো দেশে ও আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুন আলো দেখাতে পারে।”
নিউট্রি-ক্যাপ প্রকল্প দেখিয়েছে, তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা ও স্থানীয় সম্পৃক্ততা থাকলে নগরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্ভব। এই মডেল শুধু বাউনিয়াবাদেই নয়, সারাদেশে শহুরে দারিদ্র্যপীড়িত জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবার নতুন পথ দেখাতে পারে।


