
তামাকবিরোধী দিবস বেশ ঘটা করে পালন করা হয়। বিভিন্ন এনজিও তামাকের ওপর কর বাড়ানোর দাবি জানায়। এই সুযোগে প্রতি বছর বাজেট পেশের ঠিক আগে বাজারে সৃষ্টি হয় সিগারেটের কৃত্রিম সংকট। দাম বাড়ে অঘোষিতভাবে। বিপুল পরিমাণ বাড়তি টাকা কে কোথায় কীভাবে গায়েব করে দেয় টেরও পাওয়া যায় না।
যারা তামাকের বিরুদ্ধে আপোষহীন সোচ্চার আর বিদ্রোহী, তারা কি কখনো তামাকচাষ তথা তামাকচাষীদের বার্ষিক অর্থনীতির যৌক্তিক-বৌদ্ধিক-প্রায়োগিক দিকগুলো বিবেচনায় আনেন? যদি এনে থাকেন, তাহলে নিচের আলোচনা তাদের বুঝতে পারার কথা। নতুবা এসব দাবি এনজিওদের চিরাচরিত প্রকল্পভিত্তিক কর্মসূচির ঘেরাটোপেই ঘুরতে থাকবে অনির্দিষ্টকাল।
তামাকের আবাদ করা সবচেয়ে সহজ। খরচসহ উপকরণ দেয় তামাক কোম্পানি। পরামর্শ দেয়। তামাক পাতা পুষ্ট হলে তারাই এসে ক্ষেত থেকে কিনে নিয়ে যায়।
বাংলাদেশে আর কোনো ফসল চাষে এত সুবিধা আছে? চিনিকলের টাকায় আখ আবাদ করে সেই আখ বিক্রির টাকা পেতে কত মাস লাগতো সেটা জানেন কেউ? পাটকলে কাঁচা পাট বিক্রি করলেও একই বিপদ। বোরো এবং আমন ধানের দাম সরকার ঠিক করে দিলেও সেটা হাটে-বাজারে নয়, কার্যকর শুধুমাত্র সরকারি গুদামে। ধানের আর্দ্রতার মাপও হতে হবে কমপক্ষে ২৫ শতাংশ, নইলে সেটা কেনা হবে না। হিমাগারে আলু রেখে পরে বাজারে ছাড়া হলে খরচও ওঠেনা মাঝেমাঝে। গম আবাদ তুলনামূলক নিরাপদ, যদি সেটা বিএডিসির স্কিমের আওতায় করা হয়।
এসব সমস্যার সমাধান না খুঁজে তামাক নিয়ে টানাটানি করে লাভ নেই। তামাক খাতে রাষ্ট্রেরও বড় বিনিয়োগ আছে, সেটা ভুলে গেলে চলবে না। দেশব্যাপী কৃষি বিপণন ব্যবস্থা সত্যিকার অর্থে কৃষি ও কৃষকবান্ধব করা হোক। ধীরে ধীরে তামাক চাষ কমানো হোক। নইলে আদতেই সামনে খাদ্যশস্য আবাদ আরও কমবে। তামাকের চাষ বাড়বে। খাদ্য মজুদ হুমকীতে পড়বে।
উত্তরবঙ্গ জুড়ে ভুট্টার ব্যাপক চাষ হয়। পোল্ট্রি ফিড খাত বাদে ভুট্টার ব্যবহারটা কোথায়? কৃষক আসলে তাঁর আর্থনীতিক লাভটা আগে দেখেন। তাঁদেরও সচেতন হওয়া জরুরি।
লেখক: এস এম চন্দন, সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়