
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় কেনিয়া সরকারের চাওয়া ৭৮ বিলিয়ন কেনিয়ান শিলিংয়ের জরুরি ঋণ ছাড়ে বিলম্ব করেছে বিশ্বব্যাংক। তহবিলটি কীভাবে ব্যয় করা হবে, সে বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে বিস্তারিত পরিকল্পনা চেয়েছে সংস্থাটি।
কেনিয়া সরকার চলতি বছরের এপ্রিলে বিশ্বব্যাংকের র্যাপিড রেসপন্স ফাইন্যান্সিং (দ্রুত প্রতিক্রিয়া অর্থায়ন) কর্মসূচির আওতায় এ ঋণের আবেদন করে। বৈশ্বিক উত্তেজনার কারণে জ্বালানি ও সারের দাম বৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় এ অর্থ ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল সরকারের।
তবে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, তহবিল ছাড়ের আগে সরকারকে নির্দিষ্টভাবে জানাতে হবে কোন কোন জরুরি খাতে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। ব্যয়ের স্পষ্ট পরিকল্পনা না পাওয়া পর্যন্ত ঋণ অনুমোদন করা হবে না।
জ্বালানি আমদানিনির্ভর কেনিয়া সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির চাপে রয়েছে। সরকার কর ছাড়সহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও জ্বালানির খুচরা মূল্য বাড়তেই থাকায় পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়েছে।
বিশ্বব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়কে এখন তহবিল পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান বৈশ্বিক উত্তেজনার অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় সরকারকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের দ্রুত প্রতিক্রিয়া অর্থায়ন ব্যবস্থা সংঘাত, মহামারি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে সদস্য দেশগুলোকে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার জন্য চালু করা হয়েছে।
এরই মধ্যে গত ২৯ জুন কেনিয়ার সুশাসন, সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সামাজিক সুরক্ষা ও দুর্নীতিবিরোধী সংস্কার কর্মসূচির জন্য ৯৭ বিলিয়ন কেনিয়ান শিলিংয়ের একটি ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক।
এই অর্থের মধ্যে আন্তর্জাতিক পুনর্গঠন ও উন্নয়ন ব্যাংক (IBRD) থেকে ৪৪ বিলিয়ন কেনিয়ান শিলিং ঋণ এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (IDA) থেকে ৫৩ বিলিয়ন কেনিয়ান শিলিং সহজ শর্তে অর্থায়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, এ অর্থায়ন কেনিয়ায় সুশাসন জোরদার, সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য হ্রাসে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
তথ্যসুত্র: kenyans.co.ke