ঢাকাশনিবার , ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. জীবন বীমা ও ব্যাংক

ভাসমান সৌরশক্তিতে বদলে যেতে পারে ভারতের জ্বালানি খাত

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
৪ জুলাই ২০২৬, ১২:২৬ বিকাল

Link Copied!

জলাশয়ের ওপর সৌর প্যানেল স্থাপনের প্রযুক্তি বা ‘ভাসমান সৌরশক্তি’ (Floating Solar) ভারতের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের প্রায় ২৮০ থেকে ৩০০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে এ প্রযুক্তির মাধ্যমে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি স্থাপনের জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের ‘Unlocking Floating Solar Potential in India’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাসমান সৌরশক্তি শুধু অব্যবহৃত জলাশয়কে কাজে লাগায় না, বরং পানির শীতল প্রভাবের কারণে সৌর প্যানেলের কার্যকারিতাও বাড়ায়। পাশাপাশি জলাশয়ের ওপর আংশিক আবরণ তৈরি হওয়ায় বাষ্পীভবনের মাধ্যমে পানির অপচয়ও কমে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের প্রথম ভাসমান সৌর প্রকল্প ২০০৭ সালে জাপানে চালু হলেও ২০১৬ সালের পর এ প্রযুক্তির দ্রুত প্রসার ঘটে। বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপে ভাসমান সৌর প্রকল্প চালু রয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা এ প্রযুক্তি বাস্তবায়নের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

ভারতে ইতোমধ্যে মধ্যপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরালা, তেলেঙ্গানা, বিহার ও রাজস্থানে কয়েকটি ভাসমান সৌর প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। তবে সম্ভাব্য মোট সক্ষমতার তুলনায় এ ব্যবহার এখনও খুবই সীমিত।

বিশ্বব্যাংক বলছে, ভাসমান সৌরশক্তির প্রসারে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভূমিভিত্তিক সৌর প্রকল্পের তুলনায় বেশি ব্যয়, উপযুক্ত জলাশয় নির্বাচনের সুস্পষ্ট নীতির অভাব, সরঞ্জাম উৎপাদনের সীমাবদ্ধতা এবং মানসম্মত প্রযুক্তিগত নির্দেশিকার ঘাটতি।

এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে প্রতিবেদনে ভাসমান সৌরশক্তির জন্য পৃথক জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, সম্ভাব্য প্রকল্প এলাকার ডাটাবেজ তৈরি, দেশীয় সরঞ্জাম উৎপাদনে উৎসাহ দেওয়া, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা চালু এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে নির্ভরযোগ্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার সুপারিশ করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং উৎপাদন ব্যয় কমার সঙ্গে সঙ্গে আগামী বছরগুলোতে ভারতে ভাসমান সৌর প্রকল্পের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এছাড়া বিদ্যমান জলবিদ্যুৎ জলাধারগুলোতে ভাসমান সৌর প্যানেল স্থাপন করা গেলে বিশ্বব্যাপী বিদ্যুতের মোট চাহিদার প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পূরণ করার সম্ভাবনাও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ভাসমান সৌর প্রযুক্তির বিকাশে ভারতের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের জন্যও কার্যকর দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

টিসিবির কার্যক্রমে ডিজিটাল রূপান্তর, সাশ্রয় হবে ৩০০-৩৫০ কোটি টাকা

দুর্গম এলাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে ভাসমান হাসপাতাল ‘স্বাস্থ্য তরী’ নির্মাণ করবে সরকার

চীনে বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষ সুবিধার ঘোষণা

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা, সম্ভাব্য নাম ‘অর্নব’

‘সমন্বিত জলবায়ু পদক্ষেপ’ রক্ষা করতে পারে কোটি কোটি মানুষের প্রাণ

২০২৬ সালের ১২ সিনেমায় ৭৫১ বার দেখানো হয় ধূমপান ও তামাক ব্যবহারের দৃশ্য

রাজস্ব বৃদ্ধি ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জাতীয় তামাক কর নীতি প্রণয়ন জরুরি

চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে কুষ্টিয়ায় ফের বিএটিবি কর্মীদের মানববন্ধন

ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরকে প্রযুক্তি ও জনবলে শক্তিশালী করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

হাওরে হাঁস চড়াতে গিয়ে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

টিসিবির কার্যক্রমে আসছে ডিজিটাল নজরদারি, বাদ ৫৯ লাখ অযোগ্য আবেদনকারী

আগামী মাসে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে যাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: রুশ রাষ্ট্রদূত