
পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালিতে রেকর্ড তাপমাত্রা দেখা দিয়েছে। প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে নদী ও খালে নামতে গিয়ে ফ্রান্সে এ পর্যন্ত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) ফ্রান্সে জুন মাসের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা ২৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের রাতে দেশটিতে সর্বোচ্চ উষ্ণ রাতের রেকর্ড হয়, যেখানে সর্বনিম্ন গড় তাপমাত্রা ছিল ২১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বর্তমানে দেশটির ৯৬টি বিভাগের মধ্যে ৫৮টিতে রেড অ্যালার্ট জারি রয়েছে।
ফ্রান্সের ক্রীড়া ও যুববিষয়কমন্ত্রী মারিনা ফেরারি জানিয়েছেন, প্রচণ্ড গরমে অনেক মানুষ ঝুঁকি উপেক্ষা করে নদী ও খালে নেমে শরীর ঠান্ডা করার চেষ্টা করছেন। এতে দুর্ঘটনা বাড়ছে। মৃতদের মধ্যে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীও রয়েছে, যে পরিবারের সঙ্গে সেইন নদীতে নামার পর ডুবে যায়।
এদিকে ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলের কারপঁত্রা শহরে একটি গাড়ির ভেতর দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অতিরিক্ত গরমের কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তাপপ্রবাহের কারণে প্যারিসের আইফেল টাওয়ার নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় জাদুঘর ল্যুভরও কয়েকদিন আগেভাগে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্পেনের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দেশটির আন্দালুসিয়া, কান্তাব্রিয়া ও বাস্ক অঞ্চলে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। ইতালির রোম, মিলান, ফ্লোরেন্স, তুরিন ও ভেনিসসহ ১৫টি শহরেও সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে।
জার্মানিতেও তাপপ্রবাহের মধ্যে পানিতে ডুবে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সপ্তাহের শেষ দিকে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশে পরিণত হয়েছে। এর ফলে তাপপ্রবাহ, পানির সংকট ও দাবানলের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত বছর ইউরোপে ১০ লাখ হেক্টরের বেশি এলাকা দাবানলে পুড়ে যায়, যা একটি রেকর্ড।